শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে একধরনের টানাপোড়েন চলছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী যোগ দিলেও তাদের একসঙ্গে বা পাশাপাশি দেখা যায়নি। এরপর নানা সময় ঢাকার পক্ষ থেকে নয়াদিল্লির কাছে ‘বন্ধুত্বসূলভ’ আচরণ প্রত্যাশার কথা বলা হয়েছে। ভারতও তাতে সায় দিয়েছে।
তবে সম্প্রতি ‘চিকেন নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডর নিয়ে দু’দেশের মধ্যে ‘বাকযুদ্ধ’ পরিলক্ষিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হবে বলে খবর শোনা গিয়েছিল। বৈঠক কবে, কখন এবং কোথায় হবে- সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। তবে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তাদের বৈঠক হতে যাচ্ছে বলে খবর প্রকাশ করেছে সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস।
বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে অফিসিয়াল ডিনারে দেখা গেছে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদিকে। একই টেবিলে পাশাপাশি বসেছেন দু’দেশের সরকারপ্রধানরা।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) তার ফেসবুকে বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন। তাতে দু’দেশের সরকারপ্রধানদের পাশাপাশি বসে ডিনার করতে দেখা যায়। প্রেস সচিব ক্যাপশনে লেখেন, ‘ব্যাংককে বিমসটেক সামিটের অফিসিয়াল ডিনারে’।
তবে সেখানে তাদের কোনো আলাপ হয়েছে কি না- সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
২ থেকে ৪ এপ্রিল ব্যাংককে বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক চেয়ে দিল্লিকে চিঠি দিয়েছিল ঢাকা।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠকটি সোফা ফরমেটে হবার কথা রয়েছে বলে সরকারের একটি সূত্রে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে তিনটায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন শুরু করেন তিনি।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী যোগ দিলেও তাদের একসঙ্গে বা পাশাপাশি দেখা হয়নি। মোদি দেশে চলে আসার পর ইউনূস নিউইয়র্কে পৌঁছেছিলেন। অধ্যাপক ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণের সাত মাস হলেও দুই নেতা মুখোমুখি হননি। যদিও ক্ষমতা গ্রহণের পর ইউনূসকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মোদি। গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষেও মোদি শুভেচ্ছা জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূসকে চিঠি পাঠিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :