ঢাকা শনিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৫

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক সংকট চরমে!

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৫, ১২:৪১ পিএম
প্রতীকি ছবি

বাংলাদেশের উপজেলাভিত্তিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক সংকট চরমে পৌঁছেছে। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো বেশির ভাগ কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের পদ শূন্য। দেশের ৫৯ শতাংশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক পদে লোক নেই। বিশেষ করে বরিশাল ও রংপুর বিভাগে এই সমস্যা বেশি। চিকিৎসকরা সেখানে দীর্ঘদিন থাকেন না, ফলে সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর চিত্র তুলনামূলক ভালো হলেও, সার্বিকভাবে দেশের প্রায় অর্ধেক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক নেই। এসব অঞ্চলে জুনিয়র চিকিৎসকরা রোগীদের জেলা সদর হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। যার কারণে সদর হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ বেড়ে যায়। কিছু জায়গায় জরুরি বিভাগেও চিকিৎসক নেই। ফলে রোগীরা পর্যাপ্ত সেবা পায় না এবং মৃত্যুও ঘটছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, রংপুর বিভাগে এক হাজার ১৬১টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ৮১৩টি ফাঁকা। সম্প্রতি সরকার পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু জনবল সংকট দূর করতে আরও কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোয় জনবল সংকটের সমস্যা নতুন নয়। যার ফলে গ্রামাঞ্চলের মানুষ যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। অনেক স্থানে আবার নেই কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তাই জুনিয়র চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসার জন্যও রোগীদের জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। ফলে সবসময়ই সদর হাসপাতালগুলোয় সক্ষমতার বেশি রোগী ভর্তি থাকে। অন্যদিকে, কিছু ক্ষেত্রে রোগীর তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে প্রায়ই চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগীর মৃত্যুও হয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান বলেন, কার্যত মাত্র তিনজন চিকিৎসক দিয়ে হাসপাতাল চালাতে হচ্ছে। জরুরি বিভাগ বলতে গেলে একদম জনবলশূন্য—ডাক্তার, ওয়ার্ড বয়, সুইপার কোনো কিছুই নেই। ফলে আন্তঃবিভাগের জনবল দিয়ে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা  দিতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রংপুর বিভাগে উপজেলাভিত্তিক চিকিৎসক পদের সংখ্যা এক হাজার ১৬১। এর মধ্যে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ৩৪৮ জন। বাকি ৮১৩টি পদই এখন ফাঁকা পড়ে আছে।

চিকিৎসক সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে এমন জেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম বান্দরবান। পার্বত্য এ জেলার সদর হাসপাতালসহ ৬ উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকসহ ৩ শতাধিক জনবল সংকট বলে স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহীন হোসাইন বলেন, রোয়াংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩টি পদের মধ্যে সাতটি পদই শূন্য। থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গুরুত্বপূর্ণ ১২টির মধ্যে ৮টি পদই ফাঁকা। লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৩টি পদের মধ্যে ১৪টি ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২টি পদের ৭টিই শূন্য। জনবল সংকটের মধ্যেও সেবা অব্যাহত রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

খুলনা বিভাগের উপজেলাভিত্তিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১ হাজার ৩২৭টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ৮৯৬টি শূন্য। এ বিভাগের জেলা বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মাত্র চারজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা।

ঠিকমতো সেবা না পাওয়ার কথা স্বীকার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মনিশঙ্কর পাইক বলেন, হাসপাতালের ২৯ জনের পদ থাকলেও সেখানে মাত্র ২ জন মেডিকেল অফিসার, একজন অ্যানেসথেসিয়া ও একজন ডেন্টাল চিকিৎসক রয়েছেন। তাই স্বাস্থ্যসেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়।

বাগেরহাটের বাকি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিত্রও প্রায় একই বলে জানা গেছে।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে বিসিএসের মাধ্যমে ২ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের জন্য এরই মধ্যে পাবলিক সার্ভিস কমিশনে চিঠি দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিসিএস থেকে আরোপ সাড়ে ৩ হাজার চিকিৎসক নেয়ার পরিকল্পনা। একই সঙ্গে একাডেমিক পদায়নের জন্যও সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টি করছে বলে জানায় স্বাস্থ্য বিভাগ।