থাইল্যান্ডে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার উচ্চপ্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমানের ঘণ্টাব্যাপী অনানুষ্ঠানিক বৈঠক নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ।
দলটি বলছে, পতিত ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গিয়ে যে অজিত দোভালের সরাসরি তত্ত্বাবধায়নে থেকে বাংলাদেশে প্রতি বিপ্লব ঘটানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তার সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক জুলাই বিপ্লবের আনুগত্যবিরোধী ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিপন্থি অসদাচরণ।
শনিবার (৫ এপ্রিল) জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।
এতে বলা হয়, গত ৩ এপ্রিল ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের নেতাদের জন্য আনুষ্ঠানিক নৈশভোজের আয়োজন করেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা।
এতে নৈশভোজে এক টেবিলে অংশ নিয়েছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার উচ্চপ্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান। নৈশভোজ শেষে দুই দেশের এ কর্মকর্তাদ্বয় দীর্ঘ একঘণ্টা ধরে আলাপচারিতা করেন।
এরকম বৈঠক অবশ্যই আনুষ্ঠানিক হওয়া আবশ্যক। আর এতে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমূহের প্রধানদের উপস্থিত থাকা অপরিহার্য।
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ বলছে, বাংলাদেশের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে এমন দীর্ঘ বৈঠক জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে। কারণ ভিনদেশী গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট সাবেক ও কর্মরত ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক মাত্রই স্পর্শকাতর। তাই এমন বৈঠক হওয়া উচিত আনুষ্ঠানিক এবং আলোচ্য বিষয়গুলোর বিষয়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জায়গা থেকে আগেই সরকার ও রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের অনুমোদন গ্রহণ কিংবা অন্ততপক্ষে আগে পরে অবহিত করা প্রয়োজন।
অজিত দোভালের সঙ্গে খলিলুর রহমানের বৈঠককে অসংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যায়িত করে এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি ও কৌশল সংক্রান্ত কিংবা আন্তর্জাতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে কিনা তা নিয়ে তদন্ত ও উচ্চতর পর্যবেক্ষণ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ।
আপনার মতামত লিখুন :