ঢাকা রবিবার, ০৬ এপ্রিল, ২০২৫

ড. ইউনূসের সামনে মোদির হাতজোড়!

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৫, ১০:৫৭ পিএম
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। বৈঠকে বসেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

গত শুক্রবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে দু’দেশের সরকারপ্রধানরা দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। সেখানে তাদের ৪০ মিনিট আলোচনা হয় বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে।

তবে বৈঠকের শুরুতেই অপেক্ষা করতে হয়েছে নরেন্দ্র মোদিকে। যা বাংলাদেশের মর্যাদায় ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি নতজানু ছিল বলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অভিযোগ করে আসছিল।

এবার ড. ইউনূসের জন্য নরেন্দ্র মোদির অপেক্ষাকে ‘বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে ’ বলে মনে করছেন অনেকেই।

বৈঠক কক্ষে অধ্যাপক ইউনূসের প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও  কূটনৈতিকরা দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। প্রধান উপদেষ্টা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দিকে এগিয়ে যান। নরেন্দ্র মোদি তার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী হাতজোড় করে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে অভিবাদন ও সম্ভাষণ করেন। এরপর দু’দেশের সরকারপ্রধান হাস্যোজ্জ্বল মুখে করমর্দন করেন।

ফটোসেশন শেষে নির্ধারিত আসনে বসেন ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদি।

দক্ষিণ এশিয়ার এই দু’দেশের নেতারা একে অপরকে পারস্পরিক সম্মান এবং সংলাপ উন্মুক্ততার সাথে স্বাগত জানান। তাদের ৪০ মিনিটের বিনিময় ছিল স্পষ্ট, উৎপাদনশীল এবং গঠনমূলক। যদিও এই দুই সরকার প্রধানের মধ্যে এটি প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ ছিল। গত আট মাস ধরে দেশগুলো অনেক দ্বিপাক্ষিক মিথস্ক্রিয়া জড়িত আছে বলে জোর দেন অধ্যাপক ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ও সেখানে বসে তার উস্কানিমূলক বক্তব্য- এসব বিষয় বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও সীমান্তে হত্যা, তিস্তা নদীর পানি বন্টনসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান।

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে একধরনের টানাপোড়েন চলছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী যোগ দিলেও তাদের একসঙ্গে বা পাশাপাশি দেখা হয়নি। মোদি দেশে চলে আসার পর ইউনূস নিউইয়র্কে পৌঁছেছিলেন।

অধ্যাপক ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণের সাত মাস হলেও দুই নেতা মুখোমুখি হননি। যদিও ক্ষমতা গ্রহণের পর ইউনূসকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মোদি। গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষেও মোদি শুভেচ্ছা জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূসকে চিঠি পাঠিয়েছেন। তবে নানা সময় ঢাকার পক্ষ থেকে নয়াদিল্লির কাছে ‘বন্ধুত্বসূলভ’ আচরণ প্রত্যাশার কথা বলা হয়েছে।