আওয়ামী লীগ শুদ্ধ বা রিফাইন্ড হতে চায়- এমন কোনো অভিপ্রায় কি দলটির আছে? দলটির প্রধান শেখ হাসিনা বা কোনো নেতা কি বলেছেন, তারা শুদ্ধ হতে চান? বরং টানা ১৫-১৬ বছরে তারা যা করেছে, ঠিকই করেছে, সুযোগ পেলে আবারও করবে-সেই বার্তা আছে বিভিন্ন খবরে।
কেউ ভুল করেছে বলে স্বীকারোক্তি থাকলেই না সামনে শুদ্ধ হওয়া বা শুদ্ধ করার বিষয়। সেসবের কোনো বালাই নেই। ব্যাপারটি অনেকটা গ্রাম দেশের প্রবাদ, যার বিয়া তার খবর নাই, পাড়াপড়শির ঘুম নাই’-এর মতো।
পাকিস্তান আমলে অধিকার আদায়ের সব আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পরও বিভিন্ন গণ-আন্দোলনে শামিল ছিল দলটি। ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে বিলুপ্ত করে দেন শেখ মুজিবুর রহমান।
পরে জিয়াউর রহমানের আমলে আওয়ামী লীগ নতুন করে নিবন্ধন পায়। ১৯৭৫ সালের থেকে দীর্ঘ একুশ বছর পর রাজনীতির সার্কাসে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের ভুল স্বীকার করে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা অতীতের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা চান।
সেসঙ্গে আব্দার করেছেন অন্তত একবারের জন্য যেন ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। সেটি ছিল রিফাইন্ড বা রেক্টিফাই হওয়ার আবেদন-আর্জি। এবার এখন পর্যন্ত তার বা দলটির কোনো পর্যায়ের সে ধরনের কোনো নমুনা নেই। এবার উপরন্তু, বড়াই-খেমটি ব্যাপকতা।
এ ক্ষেমটির মধ্যেই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে সেনা প্রশাসন ‘চাপ দিচ্ছে’ জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর মাধ্যমে বাজারে এসেছে রেক্টিফাই কথাটি। ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, তিনিসহ তিনজনের কাছে সেনানিবাস থেকে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগকে’ রাজনীতিতে পুনর্বাসনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ নিয়ে ক’দিন পানি ঘোলা হয়েছে।
আবার মিটমাটও হয়েছে। কিন্তু রেক্টিফাইড আওয়ামী লীগের আলোচনায় বাজারে যে উত্তাপ ছড়িয়েছে সেটি চলমান। আওয়ামী লীগের পক্ষে এ নিয়ে রাজনৈতিক বয়ান বেশ চলছে।
আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে কি না, তা নিয়েও চলছে নানা কথামালা। একটি পক্ষ চায়, শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সবাইকে বাদ দিয়ে বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ গঠন করানো। আরেকটি বিকল্প হলো, শেখ হাসিনার সম্মতিতে তার পরিবর্তে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদের নেতৃত্বে ‘রিফাইন্ড’ তথা পরিশোধিত আওয়ামী লীগকে ভোটে রাখা।
এরইমধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সরকারকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরামর্শ দিয়েছে। বলছে ইনক্লুসিভ নির্বাচনের কথা। মানে আওয়ামী লীগকে আসন্ন নির্বাচন করতে দেওয়া। রাজনৈতিক অঙ্গনে শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক মন্ত্রী-এমপি সাবের হোসেন চৌধুরীকে এ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা আছে।
বলা হচ্ছে, ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ পরিকল্পনাটি ভারতের। এ পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো-শেখ হাসিনার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া, আওয়ামী লীগের একটি অংশকে পুনর্বাসন করা, যাতে দলটি রাজনীতিতে টিকে থাকে এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে।
প্রশ্ন হচ্ছে, এটি কি প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অংশ, নাকি কৌশলগত ক্ষমতার পুনর্বণ্টনের নতুন এক ষড়যন্ত্র? গত কয়েক মাসে রাজনৈতিক মেরুকরণ চরম আকার ধারণ করেছে।
নতুন শক্তি হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি আত্মপ্রকাশ করেছে, যারা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পুরোনো দ্বৈতশক্তির বিপরীতে এক নতুন ধারার রাজনীতি আনতে চায়।
অন্যদিকে, বিএনপি-জামায়াত, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও অন্য দলগুলো আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে কেউ কৌশলগত আবার কেউ জোরালো অবস্থান ব্যক্ত করছে। গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান নিচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে, ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ পরিকল্পনাটি সামনে এসেছে, যেখানে শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠদের সরিয়ে একটি নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।
সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরীন শারমিন চৌধুরী, ও শেখ ফজলে নূর তাপসের মতো নেতারা এই নতুন কাঠামোর সামনের সারিতে থাকতে পারেন বলে উড়ো খবরে বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিক কিছু গোপন বৈঠকে ক্যান্টনমেন্টের পক্ষ থেকে মাঠের রাজনৈতিক শক্তিগুলোর কাছে এই কিছু প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে।
যেখানে বলা হয়: একটি দুর্বল আওয়ামী লীগ রাখা হবে-যাতে একদলীয় বিরোধীদল গঠনের পরিবর্তে বহুদলীয় প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হয়। নেতৃত্ব বদল হবে দলটির। শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের অপরাধ স্বীকার করে দলের অস্তিত্ব বজায় রাখা হবে। বিএনপির অংশবিশেষ এ ধারার পক্ষে।
দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংগ্রাম করলেও, ভেতরে ভেতরে কৌশলগত সিদ্ধান্তের দোলাচল রয়েছে বিএনপিতে। বিএনপি থেকে বলা হয়েছে, গণহত্যা ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত নন, এমন কারো নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোনো বাধা নেই।
মানে বিকল্প নেতৃত্ব নিয়ে আওয়ামী লীগ ফিরলে, তাতে তাদের আপত্তি থাকবে না। তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের ভিন্ন অবস্থান দেখা যাচ্ছে। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বিষয়টি নিয়ে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়েছেন।
তিনি লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন জনগণ মেনে নেবে না।’ জামায়াতের আমিরের বক্তব্য এনসিপির হাসনাত আব্দুল্লাহর অবস্থানকে সমর্থন করে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। অন্য দলগুলোর মধ্যেও ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ ও এবি পার্টিসহ অন্য সমমনা দলগুলোর লক্ষ্য মূলত গণতান্ত্রিক সংস্কার, তাই তারা আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন মেনে নেবে না।
সামরিক ও প্রশাসনিক শক্তি সরাসরি ক্ষমতায় না থেকেও, রাজনৈতিক ভারসাম্য তৈরি করতে চাইছে এবং এই কারণেই তারা আওয়ামী লীগের সম্পূর্ণ ধ্বংস চান না। কিন্তু, ছাত্রদের দল এনসিপি তা হতে দিতে নারাজ। তারা রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ তত্ত্বের মাঝে কৌশলে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের নমুনা দেখছে।
এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এটি দেশকে রাজনৈতিকভাবে একটি মিথ্যাচারের জালে আটকে ফেলতে পারে, যেখানে পুরোনো অপরাধীদের নতুন রূপে পুনর্বাসন করা হবে বলে নিশ্চিত তারা। ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ পরিকল্পনা মূলত একটি রাজনৈতিক পুনর্বাসন প্রকল্প, যা ক্ষমতা রক্ষার জন্য একটি নতুন কৌশল।
শেখ হাসিনার পতনের পর ভারত কৌশলগত অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছে। তবে, ভারত আওয়ামী লীগকে পুরোপুরি হারাতে চায় না, কারণ তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র এই দল। তাই তারা ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ পরিকল্পনার মাধ্যমে এমন একটি কাঠামো তৈরি করতে চাইছে, যা তাদের স্বার্থ রক্ষা করবে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর দিকে নজর রাখছে। বাংলাদেশে যদি পুনরায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সংস্কৃতি তৈরি হয় বা ‘নতুন মোড়কে পুরোনো শাসন’ কায়েমের চেষ্টা চলে, তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নীতিগত সমর্থন কমতে পারে।
আওয়ামী লীগ কীভাবে নিচ্ছে বিষয়টাকে, তা নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। কারণ শেখ হাসিনাসহ দলটির মূল নেতৃত্বকে বাদ দিয়ে বিকল্প নেতৃত্বের কথা এসেছে। দলটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এখন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।
বিদেশি একটি গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, বিষয়টি সম্বন্ধে তার কিছু জানা নেই। কে বলেছে, কারা বলেছে, তাও জানা নেই। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং শেখ ফজলে নূর তাপসকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরবে কি না। উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বারবার নির্বাচিত। তিনি তার দায়িত্ব এখনো পালন করছেন। তার নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে।’
শেখ হাসিনা দিল্লিতে অবস্থান করছেন। সূত্র বলছে, একই শহরে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও আছেন। তিনি অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। অনেকেই তার রাজনীতি শেষ বলে মনে করেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনে চাকরি করা কিছু কর্মকর্তাও দিল্লিতে আছেন।
আওয়ামী লীগের ৮১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি। এর মধ্যে সভাপতিমণ্ডলীর সংখ্যা ১৯ জন। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর মতিয়া চৌধুরী মারা গেছেন। সভাপতিমণ্ডলীর ১৯ সদস্যের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, কাজী জাফরউল্যাহ, আব্দুর রাজ্জাক, ফারুক খান, শাজাহান খান, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও কামরুল ইসলাম গ্রেপ্তার হয়েছেন।
কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের মধ্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান (গোলাপ) ও সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাকিদের প্রায় সবাই বিদেশে অবস্থান করছেন বলে খবর প্রচার হচ্ছে। এরইমধ্যে অনেকেই অনলাইন মাধ্যমে এবং নানা অনুষ্ঠানে নিজেদের আত্মপ্রকাশও ঘটিয়েছেন।
কিন্তু ‘রিফাইন্ড’ বা ‘পরিশুদ্ধ’ আওয়ামী লীগের ধারণা নিয়ে দলটির ভেতরে কোনো আলোচনা নেই। নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার বিষয়েও কোনো চিন্তাভাবনার কথা জানা যায়নি। এ বিষয়ে দলটির দেশের বাইরে থাকা প্রধান নেতৃত্বের কোনো সায় আছে, এমন আভাসও পাওয়া যায়নি। ফলে দেশে আওয়ামী লীগের পরিশুদ্ধ অংশকে রাজনীতিতে ফেরানোর সম্ভাবনা নিয়ে যে আলোচনা বা শোরগোল চলছে, তা কতটা বাস্তবসম্মত, সেই প্রশ্নও দেখা দিয়েছে।
এদিকে গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের বহু নেতা দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হবে কি না-এ প্রশ্নও ঘুরছে নতুন করে। দাবিটিতে নতুন টোকাও পড়ছে। এর মাঝে খোদ প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস জানিয়ে দিয়েছেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করবে না অন্তর্বর্তী সরকার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগকে রীতিমতো হাসিনা লীগ বানিয়েছিলেন। নিজে আজীবন সভানেত্রী। আজ্ঞাবহ চাটুকার সাধারণ সম্পাদক আর অন্যরা সব দলীয় চাকরবাকর কর্মচারী। দলীয় জ্ঞানীগুণী যারা ছিলেন তাদের পাঠিয়েছিলেন নির্বাসনে। কাউকেই উত্তরসূরি নেতা হিসেবে উঠে আসতে দেননি।
এমনকি পরিবারের একজনকেও রাজনৈতিকভাবে সামনে আনেননি। নিজের একমাত্র বোনকেও না। সবাইকে বলে দিয়েছেন টাকা যত পার কামাও কিন্তু নো পলিটিক্স। রাজনীতিতে আসা যাবে না। ফলে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে শেখ হাসিনা আছে তো আওয়ামী লীগ আছে শেখ হাসিনা নেই তো আওয়ামী লীগও নেই।
যার ফলে অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ ভুল স্বীকার করবে কি না, এমন একটা আলোচনা তৈরি হলেও উল্টো পথে হাঁটেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব। অবস্থাদৃষ্টে শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগ নিজেদের ভুল স্বীকার কিংবা অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা দেখাতে মোটেও প্রস্তুত নন বলে সহজেই অনুমান করা যায়।
দলের বর্তমান সভাপতি শেখ হাসিনা নিজের পদ ছেড়ে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বাদ দিয়ে দল পুনর্গঠন করবেন, এমন কোনো ইঙ্গিত দলটির নেতারা এখনো পাননি।
দেশের কিছু অতি জ্ঞানী রাজনীতিক আর বুদ্ধিজীবী আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ নিষিদ্ধ রবে গলা ফাটাচ্ছেন। অবস্থাদৃষ্টে আমাদের রাজনীতিকরা এখন ভেবে দেখবেন কন্যার খবর না নিয়ে পাড়াপড়শির ঘুম নষ্ট করবেন, না আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে যার যার দলের নির্বাচনী স্ট্রাটেজি ঠিক করার দিকে নজর দেবেন।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কী করবে তা তাদেরকেই করতে দেন। আগ বাড়িয়ে এমন কিছু করা যাবে না যাতে পতিত দল আবার দ্রুত পুনর্বাসনের সুযোগ পেয়ে যায়। মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতা সংগ্রামে তৎকালীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা আওয়ামী লীগ গত দেড় দশকে বাংলাদেশের জনগণের আকাক্সক্ষা ও স্বার্থের বিরুদ্ধে যে স্বৈরাচারী অবস্থান নিয়েছিল, তা শুধু দুঃখজনক নয়, বরং বিচারযোগ্য।
লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক
আপনার মতামত লিখুন :