বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির বিশেষ সহকারী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আলোচনা হলে সেখানেও মতবিরোধ দেখা যায়। অর্থাৎ, দলীয় পর্যায়েও এ বিষয়ে বিভক্তি রয়েছে।
তিনি বলেন, আট মাস অতিবাহিত হলেও গণহত্যার বিচার করা হচ্ছে না। সকল হত্যাকারীর ভিডিও ফুটেজ ও শেখ হাসিনার নির্দেশনার বক্তব্য থাকলেও বিচার হচ্ছে না। অথচ বলা হচ্ছে, বিচার না হলে নির্বাচন হবে না। এ দ্বিচারিতা জনগণ স্পষ্ট বুঝতে পারছে।
বুধবার (২৬ মার্চ) রাজধানীর গোপীবাগে সাদেক হোসেন খোকা স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য কামনায় এক দোয়া ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ৫ আগস্টের রক্তাক্ত বিপ্লবের পর দেশের অতীত ইতিহাস মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। বলা হয়েছে, দেশ নতুন করে স্বাধীন হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, আমরা স্বাধীনতা ১৯৭১ সালেই অর্জন করেছি। ১৯৭১-এর পরাজিত শত্রুরা এসব বলে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। ১৯৭১ ও ২০২৪ এক বিষয় নয়। এ ধরনের বক্তব্য মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের এবং যাঁরা সম্ভ্রম হারিয়েছেন তাঁদের প্রতি অসম্মানজনক।
তিনি বলেন, কেউ কেউ দাবি করছেন, জুলাই বিপ্লব তাঁরা একাই করেছেন, অন্য কেউ ছিল না। এটি ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির বক্তব্য। বিএনপি ও ছাত্রদলই এ আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে। যেমনটি শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের কৃতিত্ব এককভাবে নিতে চেয়েছিলেন, তেমনি কিছু ব্যক্তি নিজ কৃতিত্ব জাহিরের অপচেষ্টা করছেন।
প্রকৌশলী ইশরাক বলেন, গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ হচ্ছে ভোট, যা আমাদের অধিকার। নানা অজুহাতে নির্বাচন স্থগিত রাখা যাবে না। কেউ যদি জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলে, তবে বিএনপি ঘরে বসে থাকবে না।
তিনি বলেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে এবং এই দলটি রণাঙ্গনের সম্মুখ যোদ্ধাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। অপরদিকে, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ব্যবসা করলেও তাঁদের নেতৃত্বে কোনো সম্মুখ যোদ্ধা নেই।
তিনি আরও বলেন, দেশে যে যার মতো চলছে—চারদিকে রাস্তা অবরোধ, দোকান স্থাপন, একে অপরের ওপর হামলা চলছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ পাবে। যারা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে, তাদের কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক পাভেল সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. পারভেজ রেজা কাকন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুমন ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রহিম ভূঁইয়া, বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাভলু, মাশরুল হোসেন প্রমুখ।
আপনার মতামত লিখুন :