মূর্তিবাদী সংস্কৃতি নয়, বরং তৌহিদি চেতনার মধ্যেই বাঙালি মুসলমানের সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ নিহিত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে হেফাজতে ইসলাম।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এ কথা বলেন।
বিবৃতিতে তারা নতুন বাংলাদেশে মুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশে ঈদ উদযাপনের সুযোগ পাওয়ায় মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানান এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
তারা বলেন, ‘সুলতানি ও মুঘল আমলের কয়েকশ বছরের পুরনো ঐতিহ্য ‘ঈদ মিছিল’ পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের মুসলমানদের সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ শুরু হয়েছে বলে আমরা মনে করি। শিশু-কিশোরসহ সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ঈদ মিছিল। তবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত ঈদ মিছিলে বিভিন্ন মূর্তির সংযোজন ঈদের মূল চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলামের দুই ঈদের প্রবর্তনের ইতিহাস না জেনে ঈদ মিছিলে মূর্তিবাদী উপাদান যুক্ত করা হয়েছে, যা আমরা তীব্রভাবে নিন্দা জানাই। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধ করা না হলে আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।’
নেতারা আরও বলেন, ‘আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগে ‘নওরোজ’ ও ‘মেহেরজান’ নামে দুটি উৎসব প্রচলিত ছিল, যা ইসলামের তৌহিদি চেতনার বিপরীত। তখন পৌত্তলিক সংস্কৃতি থেকে মুক্ত থাকার জন্য ইসলাম দুটি ঈদের প্রচলন করে। অথচ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত ঈদ মিছিলে মঙ্গলশোভাযাত্রার মতো মূর্তিবাদী উপকরণ সংযোজিত হয়েছে। ঈদ মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহ প্রদত্ত পুরস্কারের দিন এবং এটি আনন্দের উৎসব। সে আনন্দ উদযাপন হতে হবে ইসলামের তৌহিদি চেতনা ও বিধান অক্ষুণ্ন রেখে। কোনো প্রাণী বা মানুষের মূর্তি বা ভাস্কর্য নির্মাণ ইসলামে নিষিদ্ধ। তাই ঈদ উদযাপনকে সাংস্কৃতিকভাবে জাতীয় উৎসবে পরিণত করতে হলে ইসলামি বিধান অনুসরণ করেই তা করতে হবে।’
তারা আরও বলেন, ‘সবশেষে আমরা নতুন বাংলাদেশে মুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশে ঈদ উদযাপনের সুযোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’