সোমবার, ৩১ মার্চ, ২০২৫

জার্মানিতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন নির্বাসিত কবি ও সাংবাদিক দাউদ হায়দার

জার্মানি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৭, ২০২৪, ০৬:০১ পিএম

জার্মানিতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন নির্বাসিত কবি ও সাংবাদিক দাউদ হায়দার

কবি ও সাংবাদিক দাউদ হায়দার। ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

জার্মানির রাজধানী বার্লিনের নয়াকোলনের একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন বাংলাদেশের কবি ও সাংবাদিক দাউদ হায়দার। তাঁর অবস্থা অত্যান্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন ভিভানটেস হাসপাতালের প্রধান শল্য চিকিৎসক ড. গুইলু কাটালডেগিরমেন। তিনি বলেন, গেল বৃহস্পতিবার ১২ ডিসেম্বর কবিকে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। অবস্থার বেগতিক দেখে তাঁকে সাথে সাথে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ভর্তি করানোর পর কৃত্রিম কোমা বা আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। ড. কাটাল ডেগিরমেন আরো বলেন, রোগীর অবস্থা দেখে ধারনা করছি সম্ভবত তিনি পড়ে গিয়ে মাথায় মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। তাঁর মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে জ্ঞান হারিয়েছেন। এখন কৃত্রিম শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে আমরা আমরা আমাদের সর্বোত্তম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, মঙ্গলবার ১৭ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় দুপুর পর্যন্ত তাঁর শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত বলেও জানান অভিজ্ঞ এই চিকিৎসক।

এর আগে বার্লিনের স্থানীয় পুলিশের অপরাধদমন বিভাগ জানায়, কবি দাউদ হায়দারকে মাথায় আঘাত প্রাপ্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

বার্লিনে কবি দাউদ হায়দার একা থাকতেন। স্ত্রী সন্তান কিংবা পরিবানের একান্ত কাছের কেউ না থাকায় তাঁর খোঁজ খবর পেতে খুব বেগ পেতে হয়েছে বলে জানান বার্লিনে কবির নিকটজন সংস্কৃতিকর্মী, শিল্পী মাইন চৌধুরী পিটু। তিনিই প্রথম কবির কোন খোঁজ না পেয়ে কমিউনিটির সবাইকে জানান। স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতালে গিয়ে কবির বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন।  তিনি বলেন, কবির ভাল-মন্দ, অসুখ-বিসুখ, সুখে-দুখে চেষ্টা করেছি কাছে থাকতে। কবির কোন শত্রুও ছিলনা। তিনিসহ বার্লিনের অন্যান কাছের স্বজনরা কবির শারিরীক সুস্থতার বিষয়ে সার্বক্ষণিক খবরাখবর রাখছেন।

বাংলাদেশ থেকে কবির ভাগনি ও অন্যান স্বজনরাও কবির খোঁজ খবর রাখছেন। কবিকে সবধরণের সহযোগীতার জন্য তারা বার্লিনের প্রবাসী সকল বাংলাদেশিসহ প্রবাসীদের সংগঠন বেঙ্গালীশে কুলটুওর ফোরাম, বাংলার উঠানের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

কবি ও সাংবাদিক দাউদ হায়দার দেশের ভাষা আন্দোলনের বছর ও মাস ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী পাবনা জেলার সদরের দোহারপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তারপর থেকে তাঁর লেখনির মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। কিন্তু তার লেখা ও কবিতার জন্যই ১৯৭৪ সালেই তাঁকে দেশ ছাড়তে হয়। সেসময় তাকে জার্মানির নোবেলজয়ী লেখক, কবি ও সাহিত্যক প্রয়াত গুইন্টার গ্রাস ও দেশটির তৎকালীন ভাইস চ্যান্সেলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হান্স ডিটরিখশ গেনশের জার্মানিতে নিয়ে আসেন।  তারপর থেকেই কবি জার্মানির বার্লিনেই নির্বাসিত জীবনযাপন করছিলেন।
 

আরবি/জেডআর

Link copied!