ইসলামিক ক্যালেন্ডার বা হিজরি সন মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, এবং এটি ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে শুরু হয়েছিল। হিজরি সনের প্রবর্তক ছিলেন খলিফা উমর ইবনে আল-খাত্তাব (রাঃ), যিনি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হিসেবে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।
হিজরি সনের সূচনা মূলত হিজরত বা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মক্কা থেকে মদিনায় অভিবাসনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মক্কা থেকে মদিনায় যাওয়ার পর, মুসলিমরা তাদের ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর তারিখ সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে প্রয়োজনীয় একটি ক্যালেন্ডার পদ্ধতি খুঁজছিল।
মুসলিম প্রশাসন ও সমাজের দ্রুত বিস্তার, এবং বিশেষত ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর সঠিক সময় ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। এরই প্রেক্ষিতে, খলিফা উমর (রাঃ) হিজরি সনের প্রবর্তন করেন। তিনি মুসলিমদের জন্য একটি চন্দ্র ভিত্তিক ক্যালেন্ডার প্রবর্তন করেন, যেখানে একটি বছর ১২টি চন্দ্র মাসের সমষ্টি হয়।
এছাড়া, হিজরি সনটি গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের (যা সৌর ভিত্তিক) থেকে আলাদা, কারণ এটি পুরোপুরি চন্দ্র মাসের উপর নির্ভরশীল। এই সনের প্রথম বছর হিসেবে ধরা হয় সেই বছর, যখন রাসূল (সাঃ) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন, যা ইসলামের ইতিহাসে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল।
হিজরি সনের মাধ্যমে মুসলিমরা তাদের দৈনন্দিন জীবন ও ধর্মীয় কার্যক্রমের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে সক্ষম হন। এটি কেবল মুসলিমদের জন্য একটি ক্যালেন্ডার নয়, বরং এটি তাদের সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং ঐতিহাসিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
আজকের দিনে, পুরো মুসলিম বিশ্বে হিজরি সন ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে ইসলামী উৎসব, রোজা, হজ, সালাত এবং অন্যান্য ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের জন্য সময় নির্ধারণে। হিজরি সনের প্রবর্তক উমর (রাঃ) এর এই অবদান মুসলিম ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন :