গত পঞ্চাশ বছর ধরে ইসলামপন্থীদের প্রতি যে বৈষম্য চলে আসছে, বর্তমানে তার মাত্রা তুলনামূলক সবচেয়ে ম কম। এটি আল্লাহর অপার অনুগ্রহ, এ জন্য আমাদের শুকরিয়া আদায় করা উচিত।
এই অনুকূল পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সমাজের প্রতিটি স্তরে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে। ইসলামের মহান আদর্শ যেন মানুষের কাছে সহজ-সরল ও বাস্তব সম্মতভাবে প্রতিভাত হয়, এ জন্য আমাদেরকে সুন্দর পরিকল্পনা মাফিক কাজ করে যেতে হবে।
তবে মনে রাখতে হবে, তুলনামূলকভাবে পরিস্থিতি অনুকূল মানে এই নয় যে, ইসলামের প্রতি সমাজের যে শ্রেণিটি বিদ্বেষপরায়ণ, তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। বরং দীর্ঘকাল ধরে সমাজের একাংশে ইসলামবিরোধী যে দৃষ্টিভঙ্গি ও অপপ্রচার চলমান, তা এখনও পুরোপুরি দূর হয়ে যায়নি।
এ অবস্থায় আমাদের অত্যন্ত সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আবেগতাড়িত বা অতি উৎসাহী হয়ে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না, যা ইসলামের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে কিংবা সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, মুসলিমরা এ দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও সাংস্কৃতিকভাবে তাদেরকে সংখ্যালঘু করে রাখা হয়েছে। এক শ্রেণির মানুষ মুসলমানদের ছোটখাট ত্রুটিকেও বিশাল আকার দেখিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে আমাদেরকে প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারসাম্য, দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে।
এক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রণয়ন অপরিহার্য। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। প্রজ্ঞার সঙ্গে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষমূলক মনোভাবের মোকাবিলা করতে হবে।
এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না, যা দাওয়াহর ক্ষেত্র উন্মোচনের পরিবর্তে রুদ্ধ করে। নিজে সতর্ক থাকি, অন্যকে সতর্ক করি। অতিউৎসাহী আচরণ করা থেকে বিরত থাকি।
লেখক: ইসলামি আলোচক, সক্রিয় সামাজিক কর্মী ও চেয়ারম্যান, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন।