ঢাকা শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫

জিম্মিই থাকল যাত্রীরা

মেহেদী হাসান খাজা
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৫, ১২:৩০ এএম
ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

সিএনজি অটোরিকশাচালকদের অবরোধে যানজট আর ভোগান্তি শুরুর পর পিছু হটেছে বিআরটিএ। 

মিটারের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে মামলা করার যে নির্দেশনা পুলিশকে দেওয়া হয়েছিল, সেই চিঠি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

অবশ্য এসব বিষয় নিয়ে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তাহলে কি পিছু হটল সরকার? তারা বলছেন, মামলার চিঠি প্রত্যাহার করা মানে সিএনজি অটোচালকদের হাতে যাত্রীরা জিম্মিই থেকে গেল।

এদিকে যাত্রীরা বলছেন, বিগত কোনো সরকার সিএনজি ও অটোচালকদের সঙ্গে পেরে ওঠেনি, এই সরকারও এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে পেরে উঠবে না।

তাদের অভিযোগ, অবশেষে জিম্মিই থাকল আমাদের মতো অসহায় যাত্রীরা। সিএনজি অটোচালকদের নৈরাজ্য চলবেই।

তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই ভাঙচুরের মুখে পড়তে হবে। সিএনজি অটোচালকদের জরিমানা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত পিছু হটল বিআরটিএ।

সংস্থাটিও যে যাত্রীদের মতো অসহায়, সেটা তাদের আচরণেই বোঝা গেল। 

এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি বিআরটিএর পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শীতাংশু শেখর বিশ্বাসের সই করা একটি চিঠি ডিএমপি কমিশনারের দপ্তরে পাঠানো হয়।

সেখানে বলা হয়, গ্যাস বা পেট্রলচালিত ফোর স্ট্রোক থ্রি-হুইলার অটোরিকশার জন্য সরকারনির্ধারিত মিটারের ভাড়ার হারের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে মামলা করার ‘নির্দেশক্রমে অনুরোধ’ করা হলো।

২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ৩৫ (৩) ধারা উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, কোনো কন্ট্রাক্ট ক্যারিজের মালিক বা চালক রুট পারমিট এলাকার মধ্যে যেকোনো গন্তব্যে যেতে বাধ্য থাকবেন।

মিটারে প্রদর্শিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ দাবি বা আদায় করতে পারবেন না। এ নিয়ম ভাঙলে আইনের ৮১ ধারা অনুযায়ী অনধিক ছয় মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

চালকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হিসেবে দোষসূচক ১ পয়েন্ট কাটার বিধান রয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. সরওয়ার রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, গতকাল রোববার সকাল থেকে অটোরিকশাচালকেরা ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় সড়ক অবরোধ করলে বিষয়টি নিয়ে আমরা বিআরটিএর সঙ্গে কথা বলেছি।

বিআরটিএ জেল-জরিমানার বিষয়ে যে চিঠিটি দিয়েছিল, তা আপাতত তারা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

আমরাও মামলা থেকে আপাতত সরে এসেছি। পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিআরটিএ পুলিশকে মামলা করার নির্দেশ দেওয়ার পর আন্দোলনে নামেন ক্ষুব্ধ অটোরিকশাচালকেরা। 

গতকাল রোববার সকাল থেকেই শুরু হয় তাদের ধর্মঘট।

এদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ঢাকার শনির আখড়া, দোলাইরপাড়, গোলাপবাগ, ডেমরা, বাসাবো, রামপুরা, কলেজগেট, আগারগাঁও, মিরপুর মাজার রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশাচালকেরা সড়ক অবরোধ করেন।

তাদের অবরোধের কারণে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ দুই প্রবেশপথ যাত্রাবাড়ী ও গাবতলী দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে এমন অবরোধের কারণে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয় বিভিন্ন সড়কে। তাতে ভোগান্তিতে পড়েন চলতি পথের যাত্রীরা।

বাসাবো এলাকায় আন্দোলনরত একাধিক চালক বলেন, ‘এখন যে অবস্থা, তাতে মিটারে চালাইলে আমাদের পোষায় না। এ কারণে আমরা মিটারে চালাব না। বিআরটিএর সিদ্ধান্ত আমরা মানি না।’

রায়হান নামের আরেক চালক বলেন, ‘আমাদের দাবি না মানলে ঢাকা অচল হয়ে যাবে। মিটারে চললে আমাদের পেটের ভাত জুটবে না। সরকারের এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রতাহার করতে হবে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অটোরিকশা, হালকা যান পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক বলেন, ‘চালকেরা গাড়ি বন্ধ রেখে গতকাল বেলা ১১টায় বিআরটিএতে স্মারকলিপি দিতে আসে। এরপর তারা মিটারে চলাচলের আইন বাতিলের আন্দোলন শুরু করে।

এদিকে একাধিক যাত্রী বলেন, ‘আগের সরকারও সিএনজি অটোচালকদের সঙ্গে পেরে ওঠেনি। চালকদের কাছে আমরা জিম্মি থেকে গেলাম।’

এদিকে অটোরিকশাচালকেরা স্মারকলিপি নিয়ে যাওয়ার আগেই সিদ্ধান্ত বদলায় বিআরটিএ। মামলা করার নির্দেশনা দিয়ে ১০ ফেব্রুয়ারির চিঠি প্রত্যাহার করে নেয়।

এদিকে ১০ ফেব্রুয়ারি ডিএমপিকে দেওয়া চিঠি গতকাল প্রত্যাহারের পর বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলেছে, মিটারে না চালানোর এক দফা দাবিতে রাজধানীজুড়ে তাণ্ডব চালানো সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের কাছে নতি স্বীকার করেছে সরকার।

সেই সঙ্গে মিটারের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারী অটোরিকশার বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশনা বাতিল করে অসহায় যাত্রীদের শোষণ করার দায় সিএনজি অটোচালকদের হাতে তুলে দিয়েছে বিআরটিএ।

বিগত সরকারের আমলে সিন্ডিকেট গড়ে তোলে শ্রমিক লীগ: এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকারের আমলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১৩ হাজার করে ২৬ হাজার ৯৯৬টি সিএনজিচালিত অটোরিকশার রিপ্লেসমেন্ট প্রক্রিয়ায় তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও তার পরিবারের আশীর্বাদে বিআরটিএর কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক সমিতি, ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ, অটোরিকশা উত্তরা মোটরের কিছু ডিলার মিলে এক ভয়াবহ দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট গড়ে তোলে।

তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশার রিপ্লেসমেন্ট খাত থেকে প্রায় ১২০০ কোটি টাকার দুর্নীতি করেছে। এদের একেকজন এখন শত শত কোটি টাকার মালিক।

এ কারণে ৩ লাখ টাকার একেকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার দাম এখন ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। 

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের তৎকালীন সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের পরিবার এই খাতে সরাসরি জড়িত থাকায় সে সময় কেউ টুঁ শব্দ করার সাহস পায়নি।

ওবায়দুল কাদের আত্মগোপনে চলে গেলেও সিএনজি অটোরিকশা খাতের এই আওয়ামী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয় রয়েছে।

ঢাকা ও চট্টগ্রামে সিএনজিচালিত অটোরিকশা রিপ্লেসমেন্ট প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত বিআরটিএর শীর্ষ কর্মকর্তারা গত এক দশক ধরে এখনো ঘুরেফিরে ঢাকা-চট্টগ্রামে স্বপদে বহাল রয়েছেন।

ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে উল্লিখিত দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট আন্দোলন উসকে দিচ্ছে।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী এই সিন্ডিকেট বর্তমান সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শিথিলতা, সরকারের দুর্বলতাকে পুঁজি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টায় লিপ্ত।

এদিকে সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, মিটারে না চালালে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার পুরোনো আইনটি বিআরটিএ থেকে নতুন করে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করার পর কতিপয় সিন্ডিকেটধারী সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা চালকদের উসকে দিয়ে গতকাল সকাল থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বন্ধ রেখে নগরজুড়ে তাণ্ডব চালান।

এমন পরিস্থিতিতে বিআরটিএর এই সিন্ডিকেটের কাছে নতি স্বীকার করে যাত্রীদের ওপর আরও জুলুম করার হাতিয়ার চালকদের হাতে তুলে দিয়েছে সরকার।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়, ঢাকা মহানগরীর ফিটনেসবিহীন লক্কড়-ঝক্কড় বাসের উচ্ছেদ ঠেকাতে গোলাপি কালার, বাসের সংকটে ভয়াবহ যাত্রী দুর্ভোগ ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের তাণ্ডবের প্রতিবাদে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে আগামীকাল বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। 

সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল খালেক মজনু বলেন, সরকার যদি বাজারদরের সঙ্গে সংগতি রেখে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ ও সমন্বয় করত, তবে অবশ্যই চালকেরা গাড়ি মিটারে চালাতে পারতেন। সেই সঙ্গে মালিকেরাও সরকারনির্ধারিত জমা নিতে পারতেন।

বিআরটিএর (রোড সেফটি) পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানী বলেন, ‘এগুলো তাদের অজুহাত। তারা কখনোই ভাড়া ঠিকমতো নেয় না। ভাড়া সমন্বয় করার পরেও তারা ভাড়া বেশি নেয়।

এটা তাদের একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এসব অনিয়মের কারণেই ঢাকা শহরে আমরা সিএনজি অটোরিকশা বৃদ্ধি করছি না।’

বিআরটিএর আশা, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেস পুরোদমে চালু হলে সিএনজি অটোরিকশার দৌরাত্ম্য অনেকটা কমবে। কিন্তু তাদের এসব কথায় সন্তুষ্ট নন সাধারণ যাত্রীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া ভাঙা যাবে না সিএনজি অটোরিকশাচালকদের এই সিন্ডিকেট।

সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের অবরোধে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়: সিএনজিচালিত অটোরিকশা মিটারে না চালানোর দাবিতে ঢাকার বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেন বাহনটির চালকেরা।

এতে ওই সব এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, যার কারণে ভোগান্তিতে পড়েন আফিসগামী মানুষ। অনেককে পায়ে হেঁটে অফিসে যেতে দেখা গেছে। অবরোধের কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় পুরো ঢাকা শহরে।

এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, শনির আখড়া, গোলাপবাগসহ কয়েকটি এলাকায় চালকেরা সড়কে অবস্থান নেন।

ফলে যাত্রাবাড়ী এলাকা হয়ে ঢাকায় কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারে না। ঢাকা থেকে কোনো যানবাহন বের হতেও পারে না। তাদের আন্দোলন প্রত্যাহারের পর এখন আপাতত সবকিছু স্বাভাবিক।

রামপুরা থানার ওসি আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, রামপুরা বেটারলাইফ হাসপাতালের সামনে সকাল ৭টার পর থেকেই তারা জড়ো হলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করি।

শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম আজম বলেন, কলেজগেট এলাকায় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনের দুই পাশের সড়কই বন্ধ করে সিএনজিচালকেরা আন্দোলন করে, যার কারণে এসব এলাকায় সবকিছু বন্ধ থাকে।

২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর হয়নি: যাত্রীরা বলছেন, চুক্তি হয় যাত্রী ও চালকের মধ্যে এবং এই চুক্তি এমন যে, মিটারের ভাড়ার চেয়ে দুই-তিন গুণ বেশি গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের।

গত দীর্ঘ বছরেও যেহেতু মিটারের ভাড়া অনুযায়ী গন্তব্যে যাওয়ার আইনটি কার্যকর হয়নি, তাই প্রশ্ন উঠেছে দেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বলতে কি কিছু ছিল, নাকি নেই?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সিএনজি বা অটোরিকশাচালকদের আন্দোলনে জনভোগান্তির মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে, কিন্তু তা আদায় করতে গিয়ে জনগণকে জিম্মি করে প্রতিষ্ঠানকে বাধ্য করার মানসিকতা পরিহার করতে হবে।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে শীতাংশু শেখর বিশ্বাস বলেন, আইন তো আইনের জায়গায় আছে, সেটা তো আমরা প্রত্যাহার করতে পারি না। আমরা চিঠিটা প্রত্যাহার করে নিয়েছি।

এই বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটনের (ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগ) উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, ফোর স্ট্রোক থ্রি-হুইলার যান সম্পর্কিত বিআরটিএর ইস্যু করা সাম্প্রতিক নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছে।

বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করা হলো এবং অবরোধ প্রত্যাহার করে যান চলাচলে কোনো রকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলো।