পতিত আওয়ামী লীগ সরকার আমলের দেড় দশকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সব খাতেই দুর্নীতি ও নানা অপকর্মের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তবে এসব ঘটনায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি স্বৈরাচার শেখ হাসিনা।
বরং দুর্নীতি ও অপকর্মের হোতাদের আরও সাহস জুগিয়েছেন এবং লোভনীয় পদে পোস্টিং দিয়েছেন যাতে আরও বেশি বেশি লুটপাট করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শরফুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে আ.লীগের চিকিৎসক সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) নেতাকর্মীরা দেড় দশকের হরিলুটে জড়িত ছিলেন।
পরিবারসহ ব্যাংক হিসাব তলব ও নিয়োগ বাণিজ্যসহ দুদকের অনুসন্ধান চলমান থাকলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরের রয়েছেন ডা. শরফুদ্দিন। সূত্রমতে, দেশেই আত্মগোপনে রয়েছেন তিনি। শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘাটতি থাকলেও ভিসি হন তিনি।
এই আলোচিত-সমালোচিত ভিসি ছেলে-পুত্রবধূসহ পরিবারের সাতজন সদস্যকে চাকরি দেন। বর্তমান সরকারের প্রায় সাত মাস পরও শরফুদ্দিন ও স্বাচিপের সিন্ডিকেটের পতন হয়নি বলে সেখানকার কর্মরত চিকিৎসকদের অভিযোগ।
চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের জিম্মি করে দেড় দশকের ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে শরফুদ্দিন ও স্বাচিপ নেতারা বিএসএমএমইউতে পাহাড়সম অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে লুটপাট এবং অপকর্মের আখড়ায় পরিণত।
দুই দশক ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) কমিউনিটি চক্ষুবিদ্যা বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন, বিভাগের অধ্যাপক এবং চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০২১ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএসএমএমইউর উপাচার্য হিসেবে নিযুক্ত হন। ছিলেন গত বছরের ২৪ মার্চ পর্যন্ত। শরফুদ্দিন উপাচার্য হওয়ার পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বিএসএমএমইউ ও সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের অনিয়ম ও দুর্নীতি।
শরফুদ্দিন ও স্বাচিপ সিন্ডিকেটের হাত থেকে বাদ যায়নি বিএসএমএমইউ অধীন সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালও। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শরফুদ্দিন আহমেদের দায়িত্বে থাকাকালে স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণ, নির্মাণ শেষে কেনাকাটা এবং জনবল নিয়োগে মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁস, নিয়োগ বাণিজ্যসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তৃতীয় দফায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে পুরো নিয়োগ কার্যক্রম বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ
দিকে, এসব অপকর্ম দুর্নীতির হোতা শরফুদ্দিন ও স্বাচিপের নেতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। তদন্তে সাধারণ চিকিৎসকদের পাশ কাটিয়ে সাবেক উপাচার্য নিজ সন্তান ও পুত্রবধূকে শর্তপূরণ না করেই কোর্সে ভর্তির সুযোগ দেওয়াসহ নানা অনিয়মের চিত্র উঠে আসে। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দুই হাজারের বেশি নিয়োগ দিয়েছেন বলে দুদকের হাতে অভিযোগ এসেছে।
বিএসএমএমইউর সাবেক উপাচার্য শরফুদ্দিন আহমেদের আমলে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এডহক ভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া ব্যক্তিদের চাকরি স্থায়ীকরণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে তৈরি হয় আতঙ্ক। ফলে ওই সময়ে ব্যাহত হয় হাসপাতালের চিকিৎসা গবেষণা কার্যক্রম।
দেড় দশক ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা কনভেনশন সেন্টার নির্মাণে ভয়াবহ দুর্নীতি করা হয়েছে। ফলে আজ তা বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
২০০৬ সালের আগে নিয়োগ দেওয়া শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীদের যে হয়রানি, চাকরিচ্যুতি, পদাবনতি, উচ্চ শিক্ষা অর্জনে বাধা এবং বৈষম্যের মাধ্যমে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ এ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, চিকিৎসা ও গবেষণা কার্যক্রম ধ্বংস করা হয়েছে।
উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার ছেলে তানভীর আহমেদ ও ছেলের স্ত্রী ফারহানা খানম চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। উপাচার্য শরফুদ্দিনের স্ত্রী নাফিজা আহমেদের ভাইয়ের ছেলে সাব্বির হোসেনকেও কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
তবে এই তিন নিয়োগেই থেমে থাকেননি উপাচার্য শরফুদ্দিন আহমেদ। তার পরিবারের আরও সাত সদস্যকে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। গত তিন বছরে স্থায়ী, অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিকসহ বিভিন্ন উপায়ে দুই হাজারের বেশি অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, মেডিকেল অফিসার, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, নার্স, ওয়ার্ড বয়, আয়া, গাড়িচালক, সুইপার ও এমএলএসএস নিয়োগ দিয়েছেন। এই নিয়োগের বড় অংশকে তিনি অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেন এবং পর্যায়ক্রয়ে স্থায়ী করে নেন।
নিয়ম অনুযায়ী, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের কথা থাকলেও বেশির ভাগ নিয়োগই হয়েছে কোনো বিজ্ঞপ্তি ছাড়া। যেখানে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর তার অনুগত বিভিন্ন বিভাগের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে একটি শক্তিশালী চক্র গড়ে তোলেন।
সেই চক্র গত তিন বছরে দুই হাজারের বেশি জনবল নিয়োগ দেন। তার সময়ে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদের কাছ থেকে পদমর্যাদা অনুযায়ী জনপ্রতি ১০ থেকে ২৫ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চাকরি স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতি প্রদানে জনপ্রতি দুই থেকে তিন লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন।
অধ্যাপক ডা. শরফুদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর থেকে নিজেকে নানা অনিয়মে আবদ্ধ করে ফেলেন। তার বিরুদ্ধে প্রতিটি পদোন্নতিতে ২০ লাখ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করতেন। ভিসি হওয়ার পর থেকেই অনিয়ম-দুর্নীতিতে তিনি অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেন।
শরফুদ্দিন আহমেদ ও তার পিএস ডা. রাসেলসহ অন্যদের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেয়। চক্রটি সে সময় পদোন্নতি, বদলি, টেন্ডার বাণিজ্য ও বিদেশ ভ্রমণের নামে অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীনিতে যুক্ত ছিলেন।
সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালেও থাবা: চরম দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় ডুবছে বিএসএমএমইউর ৭৫০ শয্যার সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল। এটি একটি করপোরেট হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে ব্রেন ক্যানসার, দুর্ঘটনায় বড় ইনজুরি, কিডনি ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট, ইউরোলজি, কার্ডিয়াক সার্জারি ও কার্ডিওলজিসহ সব ধরনের জটিল রোগের উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে।
আমেরিকা, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে যে ধরনের হাসপাতাল রয়েছে, সেই মডেলেই হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়। ২০২২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের উদ্বোধন করা হয়। বিএসএমএমইউর তৎকালীন ভিসি অধ্যাপক ডা. শরফুদ্দিন এবং তার দোসররা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ২০২৩ সালে লোকবল নিয়োগ দেন।
উদ্বোধনের পর তিন বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও হাসপাতালটি পুরোপুরি চালু করা হয়নি। হাসপাতালটির জন্য কেনা ২৮৩ কোটি টাকার অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির বেশির ভাগই নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এ হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে, শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের জুনে। কিন্তু প্রায় এক বছর আগেই কাজ অসমাপ্ত রেখে ২০২২ সালে তড়িঘড়ি করে এটি উদ্বোধন করা হয়। এ হাসপাতালটি নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয় কোরিয়ান সরকার। বাকি ৫০০ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকার দেয়।
অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক: সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. শরফুদ্দিন আহমেদ ও তার পিএস ডা. রাসেল ও অন্যান্যের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য করে ১০০ কোটি টাকা ঘুষ আদায়, যোগ্যতার ঘাটতি নিয়ে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি এবং উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণে অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া, নিয়ম বহির্ভূতভাবে পরিবারের সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া, অনৈতিক অর্থ উত্তোলন, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পেয়েছে দুদক।
কমিশন এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার তথ্য জানিয়ে দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শরফুদ্দিন আহমেদ ও তার পিএস ডা. রাসেল ও অন্যান্যের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য করে ১০০ কোটি টাকা ঘুষ আদায়, যোগ্যতার ঘাটতি নিয়ে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণে অনিয়মের আশ্রয়, নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিবারের সদস্যদের নিয়োগ প্রদান, অনৈতিক অর্থ উত্তোলন, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে কমিশনে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এ ছাড়াও শরফুদ্দিন আহমেদ ও তার স্ত্রী এবং তিন সন্তানের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুদক দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে তাদের হিসাবের তথ্য চেয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে চিঠি দেয়।
ব্যাংকগুলোকে দেওয়া দুদকের চিঠিতে বলা হয়েছে, বিএসএমএমইউর চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও সাবেক ভিসি ডা. মো. শরফুদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য তিন সদস্যের অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে দুদক।
শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘাটতিতেও হতে চেয়েছিলেন সহযোগী অধ্যাপক: বিএসএমএমইউয়ে সংরক্ষিত ডা. শরফুদ্দিন আহমেদের নথি অনুযায়ী, ২০০১ সালের ২ জুন ডা. শরফুদ্দিন আহমেদ সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে ব্যক্তিগত পদোন্নয়নের ব্যাপারে গঠিত নির্বাচন কমিটির কাছে সাক্ষাৎকার দেন। তখন তিনি হাসপাতালটির চক্ষুবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে (চলতি দায়িত্ব) ছিলেন।
পদোন্নতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মমতো প্রকাশনা থাকলেও তার প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল না। সাক্ষাৎকার শেষে নির্বাচন কমিটির মন্তব্যে বলা হয়, শরফুদ্দিন আহমেদের পদোন্নতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী শিক্ষাগত কোনো শর্ত পূরণ করেননি।
যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ে আত্তীকৃত ও প্রকাশনা আছে সে কারণে বিশেষ বিবেচনায় সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নয়ন দেওয়া যায়। বিষয়টি একাডেমিক কাউন্সিল সভায় প্রেরণ করার জন্য সুপারিশকৃত। ওই কমিটি অন্য দুই চিকিৎসকের (নাক কান ও গলা বিভাগের তৎকালীন সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবু সফি আহমেদ আমিন এবং পেডিয়াট্রিক বিভাগের তৎকালীন সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান) পদোন্নতিতে সব শর্ত পূরণ হয়েছে বলে মন্তব্যে উল্লেখ করেন।