দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে উৎসব, সবসময় মানুষ পণ্য কিনতে সরাসরি মার্কেট বা শপিংমলে গমন করত। সেখানে গিয়ে পছন্দ আর বাজেট অনুযায়ী নানা দোকান ঘুরে নানা রকম পণ্য যাচাই-বাছাই করে কেনাকাটা করতেন তারা।
তবে, সময়ের সঙ্গে বেড়েছে ব্যস্ততা এবং বাস্তবতা। অনেকের পক্ষেই এখন কয়েক ঘণ্টা সময় নিয়ে শপিংমলে যাওয়ার সুযোগ থাকে না, আবার অনেকে ভিড় ঠেলে শপিং করতে পছন্দও করে না।
তাদের জন্য নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে অনলাইন কেনাকাটার হাট। মানুষের সংখ্যা ও চাহিদা বাড়ছে দিন দিন অনলাইন কেনাকাটায়। ঈদ কিংবা যেকোনো উৎসব ঘিরে ঝুঁকছেন অনলাইনের শপিংয়ের ওপর। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে না।
দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ঘরে বসেই ক্রেতারা কিনতে পারছেন তাদের পছন্দের পণ্য। অনলাইনে কেনাকাটায় থাকছে বিভিন্ন রকম মূল্যছাড় বা অফারও।
ই-কমার্স সংশ্লিষ্টরা জানান, অনলাইনে শপিং জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ক্রেতারা খুব সহজেই পছন্দের পণ্য হাতের নাগালে পাচ্ছেন। এ জন্য তাদের কষ্ট করে মার্কেট বা শপিংমলে যেতে হচ্ছে না।
লতিফা লতা একজন শিক্ষার্থী। থাকেন রাজধানীর গুলশান এলাকায়। নিজের ও পরিবারের জন্য ঈদের কেনাকাটা করতে মার্কেটে যাওয়ার ইচ্ছে হয় না তার। ঈদকে কেন্দ্র করে উপচে পড়া ভিড় ঠেলে শপিং করতে রাজি নন তিনি।
ফলে, এমন মানসিকতা থেকে এবার পুরো পরিবারের ঈদের কেনাকাটা করছেন অনলাইনে। তিনি জানান, অনলাইনে অনেক ব্র্যান্ডের পোশাক এখন পাওয়া যায় এবং ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য হাতে পেয়ে টাকা দেওয়ার সুযোগটা আরও নিশ্চিত হতে পারি।
ঘরে বসে অনলাইনে পছন্দের পণ্য অর্ডার দিচ্ছি। তিন দিনের মধ্যে সেসব পণ্য হাতে পেয়ে যাচ্ছি। এতে সময় বাঁচে আর ঈদে মার্কেট শপিংমলে মানুষের জটলা এড়ানো সম্ভব হয়।
বৃষ্টি আক্তার একজন কর্মজীবী নারী তিনি রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমাদের মতো যারা কর্মজীবী নারী, অফিস-সংসার সামলে এত সময় থাকে না, মার্কেটে গিয়ে পছন্দ করে ঈদের কেনাকাটা করব।
ঘরে বসে অনলাইনে পছন্দের পণ্য অর্ডার দিচ্ছি। তিন দিনের মধ্যে সেসব পণ্য হাতে পেয়ে যাচ্ছি। এতে সময় বাঁচে আর ঈদে মার্কেট-শপিংমলে মানুষের জটলা এড়ানো সম্ভব হয়। ক্যাশ অন ডেলিভারি হওয়ায় পণ্য পছন্দ না হলে রিটার্ন দেওয়ার সুবিধা তো আছেই।
তবে, অনেক সময় যেটা হয়, যেভাবে তাদের পেজগুলোয় ছবি থাকে বা বলে বাস্তবে মানের এবং ডিজাইনের পার্থক্য থাকে। অনেকবার অভিনব প্রতারণার মুখেও পড়তে হয়েছে। একই সঙ্গে কাপড়ের মান নিয়ে কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয়। তবু সময় ও ঝামেলা এড়াতে এটি বেশ আরামদায়ক আমাদের জন্য।’
লাকি আক্তার নামের একজন অনলাইন ক্রেতা বলেন, ঢাকাতে এখন ঈদকে কেন্দ্র করে কোথাও যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভোগান্তি সড়কের যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যাম ঠেলে অনেকে ঈদের কেনাকাটা করতে বের হওয়া খুবই কষ্টকর। যে কারণে ঈদের কেনাকাটায় একটি বড় অংশ করি অনলাইন থেকে।
শাম্মি আক্তার জানান, অনলাইনে পণ্য কিনতে এখন সরাসরি দোকান থেকে কেনার অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন ক্রেতারা। আমরা তাদের সেটা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। একটি সিঙ্গেল মার্কেটপ্লেস থেকে হাজার রকমের পণ্যের মধ্য থেকে নিজের পছন্দ করা পণ্য তারা কিনতে পাচ্ছে। সেই পণ্য আবার নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি পেয়ে যাচ্ছেন ঘরে বসেই।
পছন্দ না হলে আছে রিটার্ন বা পরিবর্তনের সুযোগ। অনলাইনে শপিংয়ের ক্ষেত্রে ছেলেদের থেকে মেয়ে কাস্টমার অনেক বেশি। কসমেটিকস থেকে শুরু কাপড় মেয়েরা বেশি কেনেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে দেশের ই-কমার্স বাজার ছিল ৫৬ হাজার ৮৭০ কোটি টাকার। ২০২২ সালে তা ৬৬ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায়। তবে পরবর্তী সময়ে তা কিছুটা নিম্নমুখী ধারায় চলে যায়। বাংলাদেশ মোবাইল ফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ই-কমার্সের বাজার প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার।
বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড মার্কেট ডটকমের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালে দেশের ই-কমার্সের বাজার হবে ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। দেশে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি ফেসবুক পেজভিত্তিক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে, যা এফ-কমার্স বা ফেসবুকভিত্তিক অনলাইন ব্যবসা নামে পরিচিত। এদের বেশির ভাগই ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা। বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটির মতো।