টানা ৯ দিনের ছুটির ফাঁদে পড়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। এবার ২৮ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৯ দিন ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ২৬ মার্চ সরকারি বন্ধ থাকার কারণে ঈদের ছুটি কাটাতে বেশির ভাগ মানুষ নগর ছাড়তে শুরু করেছেন ২৫ মার্চ থেকেই।
সেই হিসাবে প্রায় ১২ দিনের ছুটির ফাঁদে পড়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। দীর্ঘ ছুটিতে এরই মধ্যে ফাঁকা হয়ে পড়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। গত ২৫ মার্চ থেকে প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে আড়াই লাখ মানুষ নগর ছাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আগামীকাল-পরশু দুই দিনের মধ্যে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে গ্রামমুখী হবে ১০ লাখের বেশি নগরবাসী। দীর্ঘ ছুটির ফাঁদে পড়া নগরীতে ক্ষণে ক্ষণে বাড়ছে নিরাপত্তার শঙ্কা। যদিও র্যাব, সিএমপি ও জেলা পুলিশের দাবি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এরই মধ্যে বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে নগরী ও জেলায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৪ মার্চ থেকে ঈদ স্পেশাল সার্ভিস চালু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে, যা চলবে ইদের আগের দিন পর্যন্ত। পূর্বাঞ্চলের তথ্যমতে, প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ নগর ছাড়ছে রেলে।
অন্যদিকে এই ইদে ঘরমুখী মানুষের উপচে ভড়া ভির লক্ষ করা গেছে যাত্রীবাহী বাসেও। এরই মধ্যে অনলাইনে বিক্রি হয়ে গেছে অধিকাংশ বাসের টিকিট। প্রতিদিন লাখের ওপর মানুষ গ্রামের উদ্দেশে নগর ছাড়ছে বাসে করে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতা কফিল উদ্দিন জানান, কোনো রকম দুর্ভোগ ছাড়াই এবার নগরী ছাড়ছে মানুষ। দীর্ঘ ছুটির কারণে হুড়োহুড়ির বিষয়টি ঘটেনি বলে জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতি বছরই টিকিট ও অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ থাকে। এবার তেমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার সুবক্তগীন বলেন, ২৪ মার্চ থেকে শুরু হওয়া আট দিনব্যাপী রেলের ঈদ স্পেশাল সার্ভিসে স্বস্তিতেই বাড়ি যাচ্ছে মানুষ। বাড়তি নিরাপত্তাসহ যাত্রীসেবার বিষয়গুলো তদরকি করার কারণে তেমন কোনো অভিযোগ নেই।
ঘরমুখী মানুষ প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে স্বস্তিতে বাড়ি যেতে পারলেও শঙ্কিত রয়েছন নগরীর ঘরবাড়ি নিয়ে। দীর্ঘ ছুটির কারণে জনমানবশূন্য এই নগরীতে চুরি-ডাকাতি-ছিনতাইয়ের আশঙ্কা করছে অনেকেই।
নগরীর আগ্রাবাদে বসবাসরত বেসরকারি ব্যাংকের ফরহাদুল আলম জানান, যেহেতু ৯ দিনের মতো ছুটি পাওয়া গেছে, তাই ভিড় এড়াতে আগেভাগেই গ্রামের বাড়ি চলে যাচ্ছি। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে যেভাবে ডাকাতির ঘটনা বাড়ছে, সে কারণে বাড়ি গেলেও নগরীর বাসাবাড়ি নিয়ে চিন্তিত।
বন্দরে চাকরি করা এক কর্তকর্তাও একই শঙ্কার কথা জানান। তিনি বলেন, যেহেতু লম্বা একটা সময় ছুটি পাওয়া গেছে, সে কারণে অনেকেই গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে চলে গেছে। ফাঁকা শহরে চুরি-ডাকাতিসহ ছিনতাইয়ের উপদ্রব বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঈদ সামনে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত ২৫ মার্চ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. জিয়াউল হক মীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নসহ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নানান উদ্যোগ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নগরীর অলিগলিতে বাড়তি পুলেশ মোতায়েনসহ থানা-পুলিশের টহল জোরদার করার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
চসিকের তথ্যানুসারে আকবর শাহ থানা এলাকায় রয়েছে ২৩টি, খুলশী থানায় ২৫টি, পাঁচলাইশে ২০টি, ডবলমুড়িংয়ে ২০, চকবাজারে ১০, পতেঙ্গায় ১৫, চান্দগাঁওয়ে ১০, পাহাড়তলীতে ১২, হালিশহরে ৮, বাকলিয়া, কর্ণফুলী, ইপিজেড ও সদরঘাট থানায় ৬টি, বন্দর থানায় ৫টি ও কোতোয়ালী থানা আবাসিক এলাকায় ৫টির বেশি। নগর পুলিশের হিসাবমতে চট্টগ্রামে সর্বাধিক ৮৫টি আবাসিক এলাকা আছে বায়েজিদ বোস্তামি থানা এলাকায়।
ঈদের ছুটিতে নগরীর নিরাপত্তা জোরদারে থানা পুলিশের বাইরে অতিরিক্ত আরও ১ হাজার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে সিএমপি। এছাড়া নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে নজরদারির পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মোহাম্মদ ফয়সল আহমেদ জানান, ঈদের জামাতসহ আবাসিক এলাকাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে বাড়তি ফোর্স নিয়োজিত ছাড়াও থানার পুলিশকে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল হাফিজুর রহমান পিএসসি জানান, এরই মধ্যে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েিেছ। একই সঙ্গে টহল বাড়ানোসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।
জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু জানান, জেলা পুলিশে কর্তব্যরত ফোর্স ছাড়াও অতিরিক্ত ৮০০ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জেলা পুলিশের নিজস্ব টহল পুলিশ কাজ করছে।