মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক আরোপ করায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা।
কারণ, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্ক বসবে। এতদিন দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ করে শুল্ক ছিল। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক বড় বাজার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৮৪০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ। এরমধ্যে দেশটিতে তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ৭৩৪ কোটি ডলার। ফলে ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির কী হবে, সেটি নিয়ে উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
যদিও তৈরি পোশাক রপ্তানি প্রতিযোগী চীন, তাইওয়ান, ভারত ও শ্রীলঙ্কার ওপর নতুন করে শুল্কারোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বেশ কয়েকটি দেশের ওপর সর্বনিম্ন ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্কারোপ করা হয়েছে। শীর্ষ দশ পোশাক রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে শুধু মেক্সিকোর ওপর নতুন এই শুল্ক আরোপ হয়নি।
তবে ট্রাম্পের ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ ঘোষণায় চীন, জাপান ও যুক্তরাজ্যসহ দেশে দেশে ইতোমধ্যে ক্ষোভ শুরু হয়েছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদিত বা দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে ১০০ বছর পরে ‘যুক্তরাষ্ট্রকে ছিঁড়েখুঁড়ে খাওয়া’ নীতির পরিবর্তন এনেছে ট্রাম্প সরকার।
অন্যদিকে, মার্কিন পণ্য বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশে ৭৪ শতাংশ শুল্কারোপ করতে হয়। বাংলাদেশে মার্কিন পণ্য প্রবেশে ডিউটি কমিয়ে দিলে উভয় দেশের বাণিজ্যে ভারসাম্য রাখা সম্ভব বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলেন, শুল্কারোপ করা হয় বন্দরে আমদানি পণ্যে ক্রয়মূল্যের ওপর, বাজার মূল্যের ওপর নয়। যার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ক্রেতা সংকট পড়বে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নতুন করে উচ্চমাত্রায় এই শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল ৪টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ২টা) হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন করে শুল্ক ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে প্রেস সচিব এ কথা বলেন।
ওই পোস্টে শফিকুল আলম লিখেছেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক পর্যালোচনা করছে। এসব শুল্ক আরও যুক্তিসংগত করার উপায় খুঁজে বের করতে দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), যা শুল্কবিষয়ক জটিলতা নিরসন প্রয়োজন।
প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আমাদের বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমরা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করে আসছি।’ শফিকুল আলম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের চলমান কার্যক্রম শুল্ক সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।’
বাংলাদেশ বিক্রেতা হিসেবে সরবরাহ করা পণ্যের ক্রয়মূল্যের ওপর এই শুল্কারোপ হবে। ধরা যাক, পাঁচ ডলারের শার্টের ওপর আগে শুল্ক আসত ৭৫ সেন্ট, এখন আসবে ২ ডলার ৬০ সেন্ট। নতুন হিসাবে বেশি দিতে হবে ১ ডলার ৮৫ সেন্ট।
ফলে ২০ ডলারের শার্টের দাম প্রায় দুই ডলার বাড়িয়ে সেই ব্র্যান্ড বিক্রি করবে। প্রথমে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা রয়েছে, পরে অনেকটাই সামাল দিতে পারবে বিদেশি কোম্পানিগুলো। তবে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের তালিকায় নেই রাশিয়া, কানাডা, মেক্সিকো, উত্তর কোরিয়া, কিউবাসহ আরও কয়েকটি দেশের নাম।
হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তালিকায় বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ মার্কিন পণ্যের ওপর ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় এখন থেকে বাংলাদেশি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে ৩৭ শতাংশ ‘হ্রাসকৃত সম্পূরক শুল্ক’ আরোপ করা হবে। এতদিন এ শুল্কের হার গড়ে ১৫ শতাংশ ছিল।
বাংলাদেশের প্রধান দুই রপ্তানি বাজারের একটি যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের একটি বড় অংশ রপ্তানি হয় দেশটিতে। যুক্তরাষ্ট্রে বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি হয় প্রায় ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন (৮৪০ কোটি) ডলার, যা প্রধানত তৈরি পোশাক। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন (৭৩৪ কোটি) ডলার।
ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হার
ট্রাম্পের পাল্টা এই শুল্ক আরোপে ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পাকিস্তানের পণ্যের ওপর ২৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ৩৪ শতাংশ।
এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, ইসরায়েলের পণ্যে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যে ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ আরোপ করা হয়েছে।
অন্যান্য যেসব দেশের পণ্যের ওপর বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে মিয়ানমারের পণ্যে ৪৪ শতাংশ, লাওসের পণ্যে ৪৮ শতাংশ এবং মাদাগাস্কারের পণ্যের ওপর ৪৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
কঠোর অবস্থানে ট্রাম্প
পাল্টা এই শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে থাকা ট্রাম্প বলেছেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কখনো কখনো ‘বন্ধু শত্রুর চেয়ে খারাপ হয়’। যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের বিদেশি গাড়ি আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় যেসব গাড়ি উৎপাদন করা হয় তার ৮০ শতাংশের বেশি সে দেশে বিক্রি হয়। আর জাপানে যেসব গাড়ি বিক্রি হয় সেগুলোর ৯০ শতাংশের বেশি সে দেশে তৈরি হয়। এসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি বিক্রি হয় খুব সামান্য।
মার্কিন কোম্পানি ফোর্ড অন্যান্য দেশে খুব কম গাড়ি বিক্রি করে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, অন্য যেকোনো দেশে তৈরি মোটরযানের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে এবং এটা আজ মধ্যরাত (গতকাল) থেকেই কার্যকর হবে।
কথা ছিল যে দেশ মার্কিন পণ্যে যত শুল্ক আরোপ করে, সেই দেশের পণ্যে ঠিক ততটাই শুল্ক আরোপ করা হবে।
কিন্তু ঘোষণায় ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তা করতে পারতাম; কিন্তু তাতে অনেক দেশ কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়বে।’ চীনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, চীন মুদ্রা কারসাজিসহ বাণিজ্য বাধা সব মিলিয়ে মার্কিন পণ্যে ৬৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে; যুক্তরাষ্ট্র করবে তার প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ৩৪ শতাংশ।
সব দেশের বেলায় কমবেশি এই নীতি অবলম্বন করা হয়েছে। ফলে এ ঘটনায় বিপর্যস্ত হওয়ার কিছু নেই বলে মনে করেন ট্রাম্প। সব দেশের পণ্যে গড়ে ন্যূনতম ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের ওপর প্রভাব
বাংলাদেশের পণ্যে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিযোগী ভিয়েতনাম, চীন ও কম্বোডিয়ার শুল্ক বাংলাদেশের চেয়ে বেশি ধরা হয়েছে। সে কারণে আরএমজি শিল্প অতটা আক্রান্ত হবে না বলে অনেকে মত প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগীদের মধ্যে তুরস্কের ওপর ১০ শতাংশ, ভারতের ওপর ২৭ শতাংশ, পাকিস্তানের ওপর ৩০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ওপর ৪৪ শতাংশ, ভিয়েতনামের ওপর ৪৬ ও কম্বোডিয়ার ওপর ৪৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ভারত, পাকিস্তান ও তুরস্কের ওপর শুল্ক আমাদের চেয়ে কম। নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির কারণে মার্কিন ভোক্তারা এমনিতেই কিনবে কম; মূল্যস্ফীতির জেরে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিশ্বে মার্কিন পণ্য প্রবেশে উচ্চ শুল্কারোপ
পৃথিবীর অনেক দেশ মার্কিন পণ্যে এতদিন উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করেছে। যেমন ভিয়েতনাম মার্কিন পণ্যে ৯০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে রেখেছে- এখন যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে ঠিক তার অর্ধেক, অর্থাৎ ৪৫ শতাংশ।
বাংলাদেশও মার্কিন পণ্যে ৭৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ রেখেছে- এখন আমাদের পণ্যে তার অর্ধেক বা ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ভারত যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে ৫২ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে রেখেছিল, এখন তাদের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে ঠিক তার অর্ধেক বা ২৬ শতাংশ।
পৃথিবীর সব দেশই যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে উচ্চ শুল্ক আরোপ করে রেখেছে; কারণ তারা পরাশক্তি এবং এই উচ্চ শুল্ক ছিল তার একধরনের মাশুল। এখন ট্রাম্প সেটা মানবেন না।
তিনি সেই অর্থে পরাশক্তি হিসেবে থাকতে চান না। তিনি মূলত ব্যবসায়ী; ব্যবসা-বাণিজ্যই তাঁর মূল শক্তি। তিনি কয়েক দিন ধরেই বলে আসছেন পৃথিবীর সব দেশ এতদিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছিঁড়েখুঁড়ে খেয়েছে; সেই দিন আর নেই; ২ এপ্রিল সব দেশের পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হবে; সেদিন হবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস।
অর্থনীতিবিদ ও বিকেএমইএ ও এনবিআরের মতামত
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (এনবিআর) জিএম আবুল কালাম কায়কোবাদ বলেন, ‘ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশ যে ‘কার্টিং অ্যান্ড মেকিং চার্জ’ পায়, এই অংশ অপরিবর্তিত থাকলেই চলে। তবে মার্কিনিরা যা আয় করে তাই খরচ করে ফেলে। তবে ট্রাম্প সরকারের নতুন শুল্করোপে আমাদের মজুরিও বাড়াতে পারে।’
বোর্ড প্রশাসন ও কর প্রশাসন শাখার প্রধান (এডমিন) হিসেবে তিনি রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘যেহেতু তারা কোনো সঞ্জয় করে না এবং প্রত্যেক পণ্যের মেকিং চার্জ থেকে সবকিছুর দাম নির্ধারণ করে দেয়, তাই নতুন করে পলিসিও নির্ধারণ হতে পারে।
তবে শুল্ক নির্ধারণে মার্কিন ক্রেতাদের মূল্যস্ফীতি বাড়বে, যা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে বাংলাদেশের ওপর কিছু চাপ অবশ্যই থাকবে’ বলেন কায়কোবাদ।
‘যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি কমতে পারে। মারাত্মকভাবে আঘাত হানার শঙ্কা রয়েছে’ মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সিনিয়র রিসার্চ ডিরেক্টর খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘নতুন করের হার বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা সব আইটেমের জন্য ভারবাহী হবে। নতুন করে পণ্যের দামও বাড়বে।
তিনি বলেন, ‘আমেরিকান ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং তারা ভোক্তাদের আইটেমগুলোর জন্য কম ব্যয় করবে। অন্যদিকে, নতুন শুল্কের হার মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে। যার কারণে বৈশ্বিক ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি কমিয়ে দেবে’ বলেন তিনি।
স্বস্তির বিষয় ‘নতুন শুল্কের হার পাকিস্তান, ভারত, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া এবং আরও অনেকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং নীতি বিশ্লেষণ করার কথা’ বলেন তিনি।
বিকেএমইএ এর সভাপতি মোহাম্মাদ হাতেম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ বিশ্বের প্রদান দুটি বাংলাদেশের বাজার। ৩৭ শতাংশ শুল্কারোপে রপ্তানি খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। সামগ্রিক রপ্তানি কমে যেতে পারে। ‘সমাধান হলো আমাদের সরকার ধীরে ধীরে তাদের পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ডিউটি কমিয়ে দিতে পারে।
এটা করলে আমাদের ক্ষতি নেই। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের আমদানির চেয়ে রপ্তানি অনেক বেশি। তাই যতটুকু আমদানি হচ্ছে সেখানে সরকার যদি ডিউটি কমিয়েও দেয় এর প্রভাব খুব একটা হবে না। এটা একটা সমাধান হতে পারে’ বলে মনে করেন হাতেম।