ঢাকা শনিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৫

ফটিকছড়ির চোখ ধাঁধানো সেলফি রোড

জালালউদ্দিন সাগর, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৫, ১২:৩০ এএম
ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

মুঠোফোনে ক্যামেরায় বন্দি একটি সেলফি। চেহারার পেছনে দিগন্ত ছুঁই ছুঁই সড়কের দুই প্রান্ত। দুই পাশে শৃঙ্খলিত গাছের পাহারায় সড়কের আকাশ ঢাকা পড়েছে সবুজ পাতার আস্তরণে। কল্পনার মতোই প্রকৃতি যেন এঁকে দিয়েছে অনিন্দ্য সৌন্দর্য। যে সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি ধরে রাখতে মন চায় স্থিরচিত্রে। তাই ভ্রমণপিপাসুরা এর নাম রেখেছেন ‘সেলফি রোড’। 

স্বীকৃৃত কোনো পর্যটন স্পট না হলেও প্রাকৃতিক দৃশ্য অবলোকনে দিন দিন বাড়ছে ফটিকছড়ি উপজেলার সেলফি রোডে পর্যটকের সংখ্যা। যেখানে তরুণ-তরুণীরা মেতে উঠছে সেলফি উৎসবে। 

উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের হেঁয়াকো বাজারসংলগ্ন এলজিইডির আওতাধীন হেঁয়াকো জিসি থেকে সিকদারখিল (আরএইচডি) সড়কের প্রায় দেড় কিমি সড়কটিই হচ্ছে সেলফি রোড। 

গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাবার বাগানের মধ্য দিয়ে সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানা যায়। এশিয়ার সর্ববৃহৎ এই রাবার বাগানে রয়েছে প্রায় ২ লাখ ১১ হাজার রাবার উৎপাদনকারী গাছ। সেই বাগানটির বুক চিরে বয়ে চলা সড়কটিতে তরুণেরা ভিড় জমায় প্রতিদিন।

নিত্য যাতায়াতে দৃষ্টিনন্দন সড়কটি মানুষের নজরে আসে মূলত করোনা মহামারির সময়কালে। সেই থেকে লোকজন সড়কটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসতে শুরু করে। তারা ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা প্রকাশ করলে জায়গাটির প্রচার-প্রসার বেড়ে যায়। পরে লোকমুখে সেলফি রোড হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

দেখা যায়, সড়কের দুই ধারে রাবার বাগানের মাঝখান দিয়ে পিচঢালা সড়কটি প্রাকৃতিক মনোরঞ্জনের এক আবহ সৃষ্টি করছে। যা অবলোকন সত্যি রোমাঞ্চকর। সম্প্রতি পার্বত্যাঞ্চল রামগড় উপজেলার ফেনী নদীর ওপর বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু উদ্বোধনের পর সেলফি রোডের গুরুত্বও বেড়েছে। 

এ সড়কের কাছাকাছি চা বাগান আর মৈত্রী সেতুর অবস্থানের কারণে ওইসব স্পটে দিন দিন বাড়ছে পর্যটকের সংখ্যা। অধিকাংশ পর্যটক মোটরসাইকেলযোগে সেলফি রোডে আসছে। নানা ভাবে তারা সৌন্দর্য উপভোগ করছে। কেউ মোবাইল কিংবা ক্যামেরায় ছবি তুলছে, করছে ভিডিও আর কেউ বা ব্যস্ত টিকটকে। 

স্থানীয়রা জানান, ঈদের সময়ে এখানে প্রচুর মানুষের ভিড় হয়। প্রতিদিন বিকেলে রামগড়ে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু দেখতে হাজারো মানুষ আসছে। বন্ধের দিন আরও বেশি হয়। যারা সেতু দেখতে আসে, তারা আবার সেলফি রোড ঘুরে আসে।  

স্থানীয় চা বিক্রেতা জসিম উদ্দিন বলেন, প্রথমদিকে সড়কটির নাম ছিল নতুন সড়ক। পরবর্তী সময়ে রাবার বাগানে ঘুরতে আসা পর্যটকরা সড়কটির অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে নাম রাখেন সেলফি রোড। পরে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে সেলফি রোড নামেই পরিচিত হয়ে ওঠে রাবারগাছে বেষ্টিত এই সড়কটি। এখন সবাই এ নামেই চেনে। 

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে ফটিকছড়িতে। সেদিক বিবেচনায় সেলফি রোড পর্যটনের নতুন দুয়ার উন্মুক্ত করেছে। এখানকার সৌন্দর্য অবলোকনে অনেকেই ছুটে আসছেন। এই রোডের সৌন্দর্য বর্ধিত করার পাশাপাশি পর্যটকদের ভালো সুযোগ-সুবিধা কিভাবে দেওয়া যায় সেটি আমরা চিন্তা করছি।