টঙ্গীতে হোটেল জাভান যৌথ বাহিনীর অভিযানে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি হোটেলটি গোপনে চালু হয়েছে, এমন খবর পেয়ে পুলিশ এসে বন্ধ করে দেয়। তবে পুলিশ চলে গেলে আবারও চালু হয়।
গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন আমতলী এলাকায় অবস্থানরত হোটেল জাভানে এমন চিত্র দেখা যায়।
হোটেল জাভানের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. সায়মন খান জানান, আমাদের বার চালানোর অনুমতি রয়েছে। আমাদের হোটেল বন্ধ রাখার কোনো নিয়ম নেই এবং বন্ধ রাখতে পারে না। তাই আমাদের সব কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কিন্তু পুলিশ এসেছে আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
একাধিক সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর হোটেল জাভানে রাত হলেই চলত মদ খাওয়া আর মেয়ে নাচানোর প্রতিযোগিতা। সেই সঙ্গে টাকার ছড়াছড়ি। এখানে সহজেই ভাড়ার বিনিময়ে পাওয়া যায় সিঙ্গেল সিঙ্গেল রুম। রয়েছে দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের মদের বিপুল সমাহার। যদিও একাধিকবার প্রশাসন হোটেল জাভান থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ উদ্ধার করেছে। তবু তাদের বেচাকেনা ও ব্যবসাটি বন্ধ হয়নি।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, ১০ তলাবিশিষ্ট সৌন্দর্যময় এই হোটেলে রয়েছে চার ধরনের আবাসন। ডিলাক্স, সুপিরিয়র, সুইটরুম, ফ্যামিলি সুইটরুম। মোট ৬৬টি রুম ছাড়াও এতে রয়েছে বিশাল একটি কনফারেন্স হল, একটি বিজনেস সেন্টার, স্পা ও ডান্স। ডেলটা ক্যাফে, বিউটি স্যালন, কানকোন রয়েল রেস্টুরেন্ট, ওভার ফ্রেশ ক্লাব, সুইমিংপুলসহ নানা ধরনের বিনোদনব্যবস্থা।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, হোটেল জাভান ভাঙ্গাচুরা অবস্থায় আছে আমি জানি। এমতাবস্থায় হোটেলে নাকি বাতি জ্বলছে এমন সংবাদে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। তবে কাউকে আটক করা যায়নি। পুলিশ পৌঁছার সংবাদে তারা বন্ধ করে দেয় হোটেলটি।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর যৌথ বাহিনীর অভিযানে নারী-পুরুষদের আটকের পর হোটেলটি সিলগালা করা হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ জব্দ করা হয়েছে। এ সময় হোটেলে অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ৪৯৪ ক্যান বিয়ার, ৫৯৮ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়।
এ সময় পতিতাবৃত্তির অপরাধে ২৭ জন নারী, হোটেলটিতে আসা ৩২ জন পুরুষ ও হোটেল পরিচালনায় নিয়োজিত ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে হোটেল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মিল্টন (৪৫) নামে এক ব্যক্তি হোটেলে তিন তলা থেকে লাফিয়ে পালাতে গেলে পাশে থাকা বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এলে বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের আপৎকালীন কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার মরদেহটি উদ্ধার করে। তাৎক্ষণিক মিল্টনের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :