ঢাকা শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি

শান্ত-মিরাজদের আমলনামা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৫, ০৫:৪১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বনের কথা শুনিয়েছেন দলের অধিনায়ক নাজমুল হাসান শান্ত। কিন্তু টুর্নামেন্টে দেখতে হয়েছে মুদ্রার উল্টো পিঠ। কোন ম্যাচ না জিতেই ফিরতে হচ্ছে শান্ত বাহিনীকে। 

৮ দলের টুর্নামেন্টে ‘গ্রুপ-এ’ তে ছিলো বাংলাদেশ। যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিলো শক্তিশালী ভারত, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড। 

টুর্নামেন্টে নিজেদের ১ম ম্যাচে ভারতের কাছে ৬ উইকেটে হেরে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হারে ৫ উইকেটে। কোন ম্যাচেই ২৫০ রানের গন্ডিও পার হতে করতে দলের ব্যাটাররা। 

নিউজিল্যান্ডের কাছে হারের মাধ্যমে মূলত কাগজে-কলমে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। ফলে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিলো ফলত নিয়মরক্ষার। আর এই নিয়মরক্ষার ম্যাচে চোখ রাঙানি দেয় বৃষ্টি। আর এতেই পরিত্যক্ত হয় ম্যাচ। গ্রুপপর্বে ৩ ম্যাচে ২ হার ও ১ পরিত্যক্ত ম্যাচের সুবাদে ১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ৩য় স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করে বাংলাদেশ।

কার কী আমলনামা? 

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এবারের আসরের বাংলাদেশ দলের ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতার মাঝেও স্ব-মহিমায় আলোকিত ছিলেন তরুণ ব্যাটার জাকের আলী অনিক। ২ ম্যাচে ২ ইনিংসে ১ হাফ-সেঞ্চুরিতে ১১৩ রান করেন তিনি। 

আসরে দলের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান তাওহিদ হৃদয় করেছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০৭ রান। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর জাকেরকে নিয়ে অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি। 

তৃতীয় সর্বোচ্চ রান করেছেন বাংলাদেশের কাপ্তান নাজমুল হোসনে শান্ত। ভারতের বিপক্ষে রানের খাতা না খুলে ড্রেসিং রুমে ফিরে গেলেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন ৭৭ রানের ইনিংস। 

দলের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম দুই ম্যাচে ব্যাট করে তুলেছেন ২ রান। অন্যদিকে দলের আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১ম ম্যাচে একাদশে না থাকলেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে দলে ফিরেছিলেন। যদিও আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি তিনি। 

টুর্নামেন্টে হতাশ করেছেন দলের ভাইস ক্যাপ্টেন মেহেদী হাসান মিরাজও। ব্যাট হাতে উপরের দিকে সুযোগ পেলেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। এছাড়া বল হাতেও ছিলেন উইকেটশূন্য। দলের আরেক প্রতিভাবান ব্যাটার সৌম্য সরকার সুযোগ পেয়েছিলেন ভারতের বিপক্ষে ১ম ম্যাচে। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন তিনি। শিশুসুলভ ভাবে উইকেট কিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি। 

তবে, টপ অর্ডার সব ব্যাটারদের মধ্যে কিছুটা ব্যতিক্রম ছিলেন তানজিদ তামিম। যদিও দুই ম্যাচে ভালো শুরুর পরও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি তিনি। দুই ম্যাচে ঝুলিতে তুলেছেন ৪৯ রান। 
বোলিংয়ে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী স্পিনার রিশাদ হোসেন। ২ ইনিংসে ৯৬ রানে ৩ উইকেট নেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে ২টি ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১ উইকেট নেন রিশাদ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২টি করে উইকেট নিয়েছেন দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। তাসকিন ৬৪ ও ফিজ ১০৪ রান দেন। এ ছাড়া ১টি উইকেট নিয়েছেন আরেক পেসার নাহিদ রানা। বাংলাদেশের হয়ে আর কোনো বোলার উইকেটের দেখা পাননি।

আরবি/আরডি