আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই তারকার মৃত্যুর চার বছর পর তার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকদের বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে গত ১১ মার্চ। চলমান এই বিচারকাজে এখন পর্যন্ত নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে।
ম্যারাডোনার দুই মেয়ে দালমা ও জিয়ান্নিনার হয়ে আদালতে লড়ছেন আর্জেন্টাইন আইনজীবী ফের্নান্দো বার্লান্দো। এক টিভি অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘পশুর সঙ্গে যেমন আচরণ করে, ডিয়েগোর সঙ্গে সেটাই করা হয়েছে। আদালতে যা কিছু দেখা গেছে, সেটাই প্রমাণ করে।’
আর্জেন্টিনার টিভি চ্যানেল এলত্রেসে প্রচারিত অনুষ্ঠান ‘লা নোচে দে মিরথা’-য় এই আইনজীবী দাবি করেন শুধু চিকিৎসায় অবহেলার কারণে ম্যারাডোনার মৃত্যু হয়নি বরং তাকে হত্যা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা আর্জেন্টাইন অভিনেত্রী ও সঞ্চালক মিরথা লেগ্রান্দ আইনজীবী বার্লান্দোর কাছে জানতে চান, ম্যারাডোনার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে, নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে?’
উত্তরে বার্লান্দোর বলেন, ‘ম্যারাডোনার মানসিক ও শারীরিক চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা আটজন ইচ্ছাপ্রসূত হত্যার দায়ে জড়িত। কোনো সন্দেহ নেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।’
বার্লান্দো দাবি করেন, ‘এটা প্রমাণিত’, চিকিৎসার দায়িত্বে যারা নিয়োজিত ছিলেন, তারা ‘কিছু একটা’ করতে পারতেন। তাদের মধ্যে কথাও হয়েছে, যেখানে আপনি শুনতে পাবেন, তারা বলছেন, “এল গোর্দো” (ফ্যাট ওয়ান/মোটু) চলে যাচ্ছেন। এল গোর্দো মারা যাচ্ছেন।’
এ ছাড়াও ম্যারাডোনার মৃত্যুর সময় সায়েন্টিফিক পুলিশের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বে থাকা কাসিনেল্লি বলেন, ‘ম্যারাডোনার ‘শরীরে সাড়ে চার লিটার পানি’ জমেছিল, এর মধ্যে তিন লিটার ছিল পেটে।
উল্লেখ্য, ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর ২০২২ সালে একটি মামলা দায়ের করে তার পরিবার। সেই মামলার ভিত্তিতে প্রসিকিউটর ও বিচারকরা ৮ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আবেদন করেছিলেন। যার ২ বছর পর সেই শুনানি শুরু করা হয়েছে।