বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপন নির্বাচিত হন ২০১২ সালে। এরপর গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরই বিসিবিতে তার এক যুগের কর্তৃত্ববাদের অবসান ঘটে।
দায়িত্ব পালনের এই এক যুগে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ আছে নাজমুল হাসান পাপনের বিরুদ্ধে। এবার এ নিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় ক্রীড়া সাংবাদিক শামীম চৌধুরী।
এই সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘বিসিবির সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন আমলে এক যুগে ২ হাজার ৭শ কোটি টাকা কীভাবে ক্রিকেট বোর্ড কতটা খেয়ালখুশি মতো খরচ করেছে তা গণমাধ্যমে এসেছে খুবই সামান্য।’
তবে বিষয়টি গণমাধ্যমে না আসার পেছনে কারণ হিসেবে গণমাধ্যমের দিকে আঙুল তুলেছেন এই সিনিয়র সাংবাদিক। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ব্যস্ত ক্রিকেট আর তারকাদের গল্প লিখতে, বলতে, ভিউ বাড়ানোর পেছনে ছুটেছে বেশি মিডিয়া। সে কারণেই বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের বিপক্ষে দুদকে অভিযোগ এবং মামলা আকারে তা গৃহিত হওয়ার নিউজ মিডিয়াতে চোখে পড়েনি।’

তিনি আরও লেখেন, ‘বিসিবি সিইওকে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নোটিশ এবং জেরার খবরও থেকেছে অপ্রকাশিত। বিসিবির আর্থিক অনিয়ম এবং গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির ভূমিকা নিয়ে যমুনা টিভি-তে স্যাটারডে নাইট অনুষ্ঠানে ৬ বার আলোচনা করেছি।’
‘বিসিবির সভায় যেসব বিষয় আলোচিত হয়, তার ১০% ও গণমাধ্যমকে পাপনের নেতৃত্বাধীন বিসিবি বলেনি। কারণ, তার আমলে প্রতিটি সভায় এজেন্ডা লিস্টে সম্পূরক বাজেট অনুমোদনই পেয়েছে গুরুত্ব। প্রতিটি সভার এসব সম্পূরক বাজেট বিনা বাধায় অনুমোদিত হয়েছে। এসব এজেন্ডা উত্থাপন করেছেন সিইও।’ যোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, বিদেশে অর্থ পাচার এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এছাড়াও গত ১৬ মার্চ দুর্নীতির অভিযোগে বিসিবির সাবেক এই সভাপতি এবং তার স্ত্রী রোকসানা হাসানসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের ২৭টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।