ফ্রান্সে সরকারি চাকরিজীবী ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় প্রতীক পরিধান করতে পারেন না। মূলত ধর্ম নিরপেক্ষতা নীতি ব্যবস্থার অধীনে এই নীতি বহাল আছে দেশটিতে। এছাড়াও বিদেশের মাটিতে ফ্রান্সকে প্রতিনিধিত্ব করা অ্যাথলেটরাও এই নীতির আওতায় ছিলেন।
তবে ব্যতিক্রম ছিল দেশটির ঘরোয়া ইভেন্টে। জাতীয় স্পোর্টস ইভেন্টগুলোতে অ্যাথলেটরা ধর্মীয় প্রতীক পরতে পারবেন কি না- এতদিন এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল ফেডারেশনের হাতে। তবে এতদিন পর্যন্ত ফেডারেশনের এ ক্ষমতা বিদ্যমান থাকলেও ভবিষ্যতে আর না থাকার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ফ্রান্স সরকার এ আইনটি সংস্কারের কথা ভাবছে বলে জানিয়েছে দেশটি সংবাদ মাধ্যম ফ্রান্স ২৪। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের সকল পেশাদার কিংবা ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় অ্যাথলেটদের মাথা ঢেকে রাখা নিষিদ্ধ করা হবে। আর এই আইন পাশ হলে, মুসলিম অ্যাথলেটরা আর হিজাব পরে কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন না। যা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন মুসলিম অ্যাথলেটরা।
জানা যায়, এরই মধ্যে চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে এ আইনটি সিনেটে পাস হয়েছে। শিগগিরই পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে ভোটাভুটির জন্য এটি পাঠানো হবে।
এ আইনটির সমর্থকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্সে জিহাদি হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ‘ইসলামপন্থীদের’ দায়ী করে তাদের অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে এমন আইন পাশের পক্ষে মত দিচ্ছেন তারা।
দেশটির জনপ্রিয় ভারোত্তোলক এবেবেনা জানিয়েছেন, ফেডারেশনের অনুমোদন সাপেক্ষেই তিনি মাথায় কাপড় দিতেন। কোনো সহকর্মী এখন পর্যন্ত তার কোনো সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি।
এমন আইনের পথে হাঁটবে না ফ্রান্স আশা করে তিনি বলেন, ‘খেলা আমাদের একত্রিত করে। এটা আমাদের একে অন্যকে জানতে সাহায্য করে। আমাদের কুসংস্কারগুলো কাটাতে সাহায্য করে।’