সোমবার, ৩১ মার্চ, ২০২৫

হোয়াইট হাউসে বিতর্কের পর সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন বৈঠক

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ১১, ২০২৫, ০১:৩৫ পিএম

হোয়াইট হাউসে বিতর্কের পর সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ছবিঃ সংগৃহীত

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মেরামত করা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত সমাপ্ত করার জন্য ইউক্রেন কোনো ছাড় দিতে প্রস্তুত কিনা, তা নির্ধারণ করার জন্যে সৌদি আরবে বৈঠকে বসেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।  

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) তাদের এ বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র ছিল ইউক্রেনের প্রধান মিত্র। কিন্তু জানুয়ারিতে ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি ইউক্রেন নিয়ে মার্কিন নীতিতে বড় পরিবর্তন আনেন। তিনি দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের জন্য মস্কোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করেন, কিয়েভের সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দেন এবং ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানও স্থগিত রাখেন।  

গত মাসে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে এক উত্তপ্ত বৈঠক হয়, যা দুই দেশের সম্পর্কে গভীর ফাটল ধরায়। এর ফলে এক গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ-সম্পর্কিত চুক্তিও অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়।

ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার মূল শর্তগুলোর একটি। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রায় হামলার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ডলার (৬,৫০০ কোটি ডলার) সামরিক সহায়তা দিয়েছে। ’

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে পড়ে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু ওয়াশিংটনের দাবি, ইউক্রেন যদি কোনো শান্তি চুক্তি চায়, তবে তাদের কিছু ছাড় দিতে হবে।  

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘আমাদের বুঝতে হবে ইউক্রেন কী ধরনের ছাড় দিতে রাজি, কারণ কোনো পক্ষই ছাড় না দিলে যুদ্ধ থামানো সম্ভব হবে না।’

সৌদি আরবে এই আলোচনায় রুবিওর সঙ্গে থাকবেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ। ইউক্রেনের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন জেলেনস্কির প্রধান উপদেষ্টা আন্দ্রি ইয়ারমাক। যদিও প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ব্যক্তিগতভাবে এই আলোচনায় থাকবেন না, তবে তিনি সৌদি আরবে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।  

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের গোপন আলোচনা

মার্কিন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইউক্রেন বিষয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি যে মার্কিন-ইউক্রেন খনিজ সম্পদ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে।’

উইটকফ শিগগিরই মস্কো সফরে যাবেন এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করবেন। গত মাসেও তিনি পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।  

ইউক্রেন কি ভূখণ্ড ছাড়তে বাধ্য হবে?

ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররা মনে করেন, রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে হলে কিয়েভকে শক্তিশালী অবস্থানে থাকতে হবে। তারা ইউক্রেনকে তাড়াহুড়ো করে সমঝোতায় যেতে নিষেধ করছে।  

জেলেনস্কি বলেন, ‘পুতিন সত্যিকারের শান্তি চান না। যদি রাশিয়া ইউক্রেনে সফল হয়, তবে তারা ইউরোপের অন্য দেশগুলোকেও আক্রমণ করতে পারে।’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও বলেন, ‘রাশিয়া পুরো ইউক্রেন দখল করতে পারবে না, তবে ইউক্রেনের পক্ষেও সব হারানো ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে।’

বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে, যার মধ্যে ২০১৪ সালে দখল করা ক্রিমিয়াও রয়েছে। রুশ বাহিনী এখন পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলে বড় ধরনের অগ্রসর হচ্ছে।  

ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন ও রুশ কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরল এক বৈঠক হয়। এটি ছিল দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ, যা বাইডেন প্রশাসনের সময় প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।  

ট্রাম্পের পররাষ্ট্র নীতি রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছে, যা ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের জন্য উদ্বেগজনক। সৌদি আরবের এই বৈঠক রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

আরবি/এসএস

Link copied!