সোমবার, ৩১ মার্চ, ২০২৫
যুদ্ধ পরিকল্পনা ফাঁস

‘কেউ একজন বড় ভুল করেছেন’ – মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ২৭, ২০২৫, ০৮:৫০ এএম

‘কেউ একজন বড় ভুল করেছেন’ – মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ সিগন্যাল-এ গোপন সামরিক পরিকল্পনা ফাঁস হওয়ায় ব্যাপক অস্বস্তিতে পড়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এই ঘটনায় দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে, এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাংবাদিকদের কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।  

রাষ্ট্রীয় সফরে জ্যামাইকাতে থাকা অবস্থায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার (২৬ মার্চ) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে, কেউ একজন বড় ভুল করেছেন এবং ভুলক্রমে এক সাংবাদিককে (সিগন্যাল গ্রুপ চ্যাটে) যুক্ত করেছেন।’

রুবিও আরও বলেন, ‘আমি সাংবাদিকদের দোষারোপ করছি না, তবে এই বিষয়ে আপনাদের কথা বলার কথা নয়।’

তিনি দাবি করেন, এই গ্রুপে থাকা নিয়ে তিনি তেমন গুরুত্ব দেননি এবং নিজের দিক থেকে বিষয়টি যাচাই করতেই সেখানে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। হামলার পর, তিনি অভিনন্দন জানাতে আবারও সেখানে বার্তা দেন।  

তবে এ নিয়ে উদ্বেগ দূর করতে তিনি বলেন, সিগন্যাল গ্রুপে দেওয়া কোনো তথ্য বাইরে প্রকাশের জন্য দেওয়া হয়নি। এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া তথ্য মার্কিন বাহিনীর সদস্যদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলবে না।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় একাধিক ড্রোন ও বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা সিগন্যাল অ্যাপে আলোচনা করছিলেন। এতে অংশ নিয়েছিলেন- ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়ালৎজ, ও এবং আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা।  

তবে ভুলক্রমে দ্য আটলান্টিকের সম্পাদক জেফরি গোল্ডবার্গ-কেও ওই গ্রুপে যুক্ত করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, মাইক ওয়ালৎজ ভুল করে গোল্ডবার্গকে গ্রুপে যুক্ত করেন। পরে, দ্য আটলান্টিক বুধবার তাদের প্রতিবেদনে গ্রুপ চ্যাটের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে।  

প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর মার্কিন প্রশাসনের গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, এমন উচ্চ পর্যায়ের সামরিক পরিকল্পনা যে অনিরাপদ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আলোচনা করা হচ্ছিল, সেটি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তথ্য ফাঁস যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কৌশলের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং ভুল সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। এখন দেখার বিষয়, এই কেলেঙ্কারির প্রভাব প্রশাসনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কতটা পড়ে।

আরবি/এসএস

Link copied!