মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে মার্কিন হামলার ফলে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা এখন শান্তি চাইছে। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের টানা বিমান হামলার কারণে তারা চাপে রয়েছে বলে জানান তিনি।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘হুথিরা এখন জানতে চায়, আমরা কীভাবে থামতে পারি? কীভাবে শান্তি আসতে পারে?’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা এখন শান্তির জন্য মরিয়া। তারা এমন পরিস্থিতি চায়নি। তারা সাগরে জাহাজে হামলা চালাচ্ছিল… সুয়েজ খালে জাহাজ চলাচল ২০ ভাগে এ নেমে এসেছে। এখন তাদের অন্য পথ দিয়ে যেতে হচ্ছে, যা কয়েক সপ্তাহের ব্যাপার এবং এটি বাণিজ্যের ওপর বিশাল প্রভাব ফেলছে।’
হুথিরা ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে
ট্রাম্প দাবি করেন, ‘হুথিরা বিশ্ববাসীর জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তারা বহু মানুষ হত্যা করেছে, অনেক জাহাজ ও বিমান ধ্বংস করেছে। তবে তারা কখনো এত বড় হামলার শিকার হয়নি।’
হুথিদের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৫ মার্চ থেকে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র জানায়, ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী রেড সি ও গালফ অব এডেনে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো বন্ধ না করলে তারা কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
প্রথম দিনে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হলে শীর্ষস্থানীয় হুথি নেতারা নিহত হন। হুথিদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ঐ হামলায় অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকেই। এরপর থেকে প্রতিদিনই হামলা চলছে, বিশেষ করে হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে।
হুথিদের প্রতিক্রিয়া: পাল্টা হামলা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ
হুথিরা দাবি করেছে, মার্কিন হামলায় তাদের হাসপাতাল ও বেসামরিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সা’দা প্রদেশে এক হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবন দ্বিতীয়বারের মতো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
হুথি বাহিনীর দাবি, তারা লোহিত সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে এবং তারা তেল আবিবে ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যদিও ইসরায়েল তা নিশ্চিত করেনি।
মার্কিন হামলা আরও দীর্ঘ সময় চলবে
ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই হামলা দীর্ঘদিন চলবে। তিনি বলেন, ‘তারা চায় আমরা থামি… কিন্তু প্রতিদিন, প্রতি রাতে আমরা তাদের ওপর হামলা চালাচ্ছি এবং এটি আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সফল হচ্ছে। আমরা অনেকদিন ধরে এটি চালিয়ে যেতে পারব।’
বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া
বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ইরানের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে সবাই।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই হামলা হুথিদের সত্যিই শান্তি আলোচনায় আনবে, নাকি তারা আরও কঠোর প্রতিশোধমূলক হামলার পথে যাবে?
সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল
আপনার মতামত লিখুন :