পরমাণু ইস্যুতে নতুন করে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাঠানো চিঠির জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) এ তথ্য জানান।
পরোক্ষ আলোচনার ইঙ্গিত
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি বলেন, "আমাদের জবাবে বর্তমান পরিস্থিতি ও ট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত মতামত দেওয়া হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের নীতি এখনো একই আছে। সর্বোচ্চ চাপ ও সামরিক হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় যাব না। তবে অতীতের মতো পরোক্ষ আলোচনা চলতে পারে।"
ট্রাম্পের চিঠির জবাব ওমানের মাধ্যমে পৌঁছে দেয়া হয়েছে, তবে এর সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু ও সময় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। এর আগেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় ওমান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিল।
নতুন পরমাণু চুক্তির সময়সীমা ও হামলার হুমকি
সম্প্রতি, নতুন পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ইরানকে দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দেন ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ইরান সম্মত না হয়, তাহলে তেহরানে সামরিক হামলা চালানো হতে পারে।
ট্রাম্পের এই হুমকির তীব্র প্রতিবাদ করেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি না করার আহ্বান জানান।
ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ও পরমাণু কার্যক্রম
দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর, ট্রাম্প তার আগের নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, এই কৌশল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে নেয়া হয়েছে। তবে ইরান বরাবরই বলে আসছে, তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায় না।
বর্তমানে, ইরান ৬০% পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রয়োজনীয় ৯০% বিশুদ্ধ ইউরেনিয়ামের কাছাকাছি। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ইরানকে সতর্ক করেছে।
২০১৯ সাল থেকে ইরান তার পরমাণু কার্যক্রম বাড়িয়েছে। এর কারণ, এক বছর আগেই তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
সূত্র: এএফপি
আপনার মতামত লিখুন :