গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযান আরও তীব্র হয়েছে। বুধবার (১৯ মার্চ) ভোর থেকে একাধিক বিমান ও স্থল হামলায় অন্তত ১০৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
গত দুই দিন ধরে চলা ব্যাপক বিমান হামলার পর ইসরায়েল এবার স্থল অভিযান শুরু করেছে, যা জানুয়ারি থেকে কার্যকর থাকা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত সমাপ্তি টেনে দিল।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা গাজার নেতজারিম করিডরে প্রবেশ করেছে, যা উপত্যকার উত্তর ও দক্ষিণকে বিভক্ত করে।
উত্তর গাজার বেইত হানুন, গাজা সিটি ও খান ইউনিসে সেনা মোতায়েন বেড়েছে এবং ফিলিস্তিনিদের দ্রুত ওই এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন করে বাসিন্দাদের স্থানান্তরের নির্দেশনা ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। যেসব পরিবার যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ি ফিরেছিল, তাদের আবার বাস্তুচ্যুত হতে হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের হেঁটে, যানবাহনে করে বা গাধার গাড়িতে করে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পর থেকে ৪৩৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ১৮৩ শিশু রয়েছে। আহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, দেইর আল-বালাহতে তাদের একটি কম্পাউন্ডে বিস্ফোরণের পর একজন কর্মীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছেন, “হামাসের বিরুদ্ধে তীব্র যুদ্ধ শুরু হয়েছে, এবং এটি মাত্র শুরু। আমাদের লক্ষ্য সব জিম্মিদের মুক্ত করা, হামাসকে নির্মূল করা এবং গাজাকে ইসরায়েলের জন্য আর কখনো হুমকি হয়ে উঠতে না দেওয়া।”
তিনি আরও বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হামাস আমাদের বাহিনীর শক্তি বুঝতে পেরেছে। এখন থেকে যুদ্ধবিরতির যেকোনো আলোচনা হবে আগুনের মুখে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বুধবার (১৯ মার্চ) এক ভিডিও বার্তায় ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশে ‘শেষ সতর্কতা’ জারি করেছেন। তিনি বলেন, হামাসের হাতে এখনো ৫৯ জন জিম্মি রয়েছে, যাদের মধ্যে ২৪ জন জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদি তাদের মুক্তি না দেওয়া হয়, তাহলে আমরা গাজায় সম্পূর্ণ ধ্বংসযজ্ঞ চালাব।
ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেড জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলছে এবং উত্তর গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থানে রকেট ও মর্টার হামলা চালিয়েছে।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা নতুন করে বেসামরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিশ্ব সম্প্রদায়ের চাপ সত্ত্বেও ইসরায়েল গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং এটি আরও বৃহৎ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র : বিবিসি
আপনার মতামত লিখুন :