ঢাকা শুক্রবার, ২৮ মার্চ, ২০২৫

কারাগারে থেকেও বিরোধীদলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী!

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ২৫, ২০২৫, ০১:৫৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি) আনুষ্ঠানিকভাবে কারাবন্দি ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুকে আগামী ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাদের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে।  

সিএইচপির এক মুখপাত্র সোমবার (২৪ মার্চ) এ ঘোষণা দেন।

এরদোয়ান সরকারের দমন-পীড়নের মধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা

তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের মধ্যেই ইমামোগলুকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে সিএইচপি।  

এই সিদ্ধান্তের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। গণতন্ত্রবিরোধী কার্যক্রমের অভিযোগ তুলে আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুলসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ রাস্তায় নামে। সরকারি হিসাবে, গত পাঁচ দিনে ১,১৩৩ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ১০ জন সাংবাদিকও রয়েছেন।  

বিরোধীদের অভিনব প্রাইমারি ভোট

রোববার (২৩ মার্চ) দলীয় প্রাইমারি ভোটের আয়োজন করে সিএইচপি। ইমামোগলুর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষকেও ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।  

এই ভোটে প্রায় দেড় কোটি মানুষ অংশ নেন, যাদের মধ্যে ১ কোটি ৩২ লাখ দলটির সদস্য নন। ভোটে ইমামোগলুই একমাত্র প্রার্থী ছিলেন।  

দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার, মেয়র পদ থেকে অপসারণ

দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহযোগিতার অভিযোগে ইমামোগলুকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় এবং ইস্তাম্বুলের মেয়র পদ থেকেও অপসারণ করা হয়।  

ইমামোগলুর লড়াইয়ের ঘোষণা

কারাগারে যাওয়ার আগে আইনজীবীদের মাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় ইমামোগলু বলেন, ‘আমি একটি সাদা জামা পরেছি, যে জামায় তোমরা দাগ লাগাতে পারবে না। আমার একটি শক্তিশালী হাত রয়েছে, যা তোমরা মচকাতে পারবে না। আমি সামান্যতমও মাথা নত করব না। এই লড়াইয়ে আমি জয়ী হব।’

ইমামোগলুর গ্রেপ্তারের ঘটনায় ফ্রান্স নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইমামোগলুকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা গণতন্ত্রের ওপর মারাত্মক আঘাত।

সিএইচপি এই গ্রেপ্তারকে ‘রাজনৈতিক ক্যু’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং জানিয়েছে, ইমামোগলুর মুক্তির দাবিতে আন্দোলন চলবে।

সূত্র: এএফপি