শনিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৫

জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রাশিয়ার অধীনেই থাকবে: ক্রেমলিন

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ২৬, ২০২৫, ১০:৩৬ এএম

জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রাশিয়ার অধীনেই থাকবে: ক্রেমলিন

ছবি: সংগৃহীত

জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রটি রাশিয়ার সম্পত্তি এবং এর নিয়ন্ত্রণ ইউক্রেন বা অন্য কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) এক বিবৃতিতে তারা আরও জানায়, কেন্দ্রটি যৌথভাবে পরিচালনা করাও সম্ভব নয়, কারণ এটি প্ল্যান্টের ভৌত ও পারমাণবিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে।  

রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার দাবি

জাপোরিঝিয়া অঞ্চল বর্তমানে আংশিকভাবে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটি ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল-এর একটি, যা ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রার আগ্রাসনের সাত মাস পর একতরফা গণভোটের মাধ্যমে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে প্রেসিডেন্টের একটি ডিক্রির মাধ্যমে জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রকে রাশিয়ার সম্পত্তি ঘোষণা করা হয়।

তবে পশ্চিমা দেশগুলো এই গণভোটকে প্রতারণা বলে নিন্দা জানিয়েছে। মস্কো বলছে, "রাশিয়ার পারমাণবিক খাতে প্ল্যান্টটি ফিরিয়ে আনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য" এবং এটি অন্য কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করা যাবে না।  

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ

যুদ্ধের শুরুতেই রাশিয়ান বাহিনী জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়েই একে অপরের বিরুদ্ধে প্ল্যান্টে হামলার অভিযোগ করে আসছে।

ছয়টি চুল্লিসহ জাপোরিঝিয়া প্ল্যান্ট ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক কেন্দ্র। যুদ্ধে একাধিকবার আক্রমণের শিকার হওয়ায় এটি একটি গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে।

জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ ও ইউক্রেনের দাবি

যদিও বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রেখেছে, তবু জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা সেখানে তদারকির জন্য প্রতিনিধি নিয়োজিত রেখেছে, যেমনটি তারা ইউক্রেনের অন্যান্য পারমাণবিক কেন্দ্রে করে থাকে।  

ইউক্রেন জাপোরিঝিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র নিজেদের মালিকানায় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে এবং ২০২২ সালে রাশিয়ার দখলকে অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।  

মার্কিন হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের পারমাণবিক কেন্দ্র পরিচালনায় সহায়তা করতে পারে বা এর মালিকানা পেতে পারে।

জেলেনস্কি তার জবাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মালিকানা ইউক্রেনের জনগণের বলে জানিয়েছেন এবং মার্কিন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।  

সূত্র: রয়টার্স

আরবি/এসএস

Link copied!