বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীনের আগে ভারত সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে ভারতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানা যায়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রধান উপদেষ্টার ভারত সফরের অনুরোধ জানায়, তবে সেটি বাস্তবায়ন হয়নি।
প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর হিসেবে চীনকে বেছে নিলেন ড. ইউনূস
ভারতের কাছ থেকে সাড়া না পাওয়ার পর, প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য চীনকে বেছে নিয়েছেন ড. ইউনূস। তিনি ২৬-২৯ মার্চ চীন সফর করবেন, যেখানে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করার পাশাপাশি শীর্ষস্থানীয় চীনা বিনিয়োগকারীদের সাথে আলোচনা করবেন।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা চীনে বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করবেন, বিশেষ করে উৎপাদন খাতে চীনা বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য।’
চীন সফরের মূল এজেন্ডা
- ২৭ মার্চ: বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া (BFA) বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ
- ২৮ মার্চ: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক
- ২৮ মার্চ: পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণ
- ২৬-২৯ মার্চ: শীর্ষস্থানীয় চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক
শফিকুল আলম আরও জানান, চীনা বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ তুলে ধরা হবে। কারণ অনেক দেশে চীনা বিনিয়োগ নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির শিকার, তবে বাংলাদেশ এই বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে আগ্রহী।
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দেবেন, মোদির সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ
চীন সফর শেষে ৩-৪ এপ্রিল থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন ড. ইউনূস। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের জন্য আবারও অনুরোধ জানানো হয়েছে, তবে এখনো ভারতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ভারত ও চীনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে চান ড. ইউনূস
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করতে ভারত ও চীনের সঙ্গে সমান সম্পর্ক বজায় রাখতে চান প্রধান উপদেষ্টা।
ড. ইউনূস এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। সে সময় ওয়াং তাকে চীনা জনগণের পুরোনো বন্ধু বলে অভিহিত করেছিলেন। একই বৈঠকে বাংলাদেশে সৌর প্যানেল তৈরির জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানান ড. ইউনূস।
দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে বাংলাদেশকে কেন্দ্রবিন্দু করতে চান
মঙ্গলবার এক ভাষণে ড. ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে চাই, যা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, নেপাল এবং ভুটানের অর্থনীতিকেও উপকৃত করবে।’
তিনি বাংলাদেশের ভৌগোলিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং কৌশলগত শিল্প অঞ্চল এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎকে রূপান্তরিত করতে পারে।’
চীনের পর মালয়েশিয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন ড. ইউনূস
প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, চীন সফর শেষে ড. ইউনূস মালয়েশিয়াও সফর করবেন, কারণ তিনি সেখান থেকেও আমন্ত্রণ পেয়েছেন এবং তা গ্রহণ করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে যেতে চীন ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছেন ড. ইউনূস। তবে ভারতের প্রতিক্রিয়া না পাওয়া কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটি দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: দ্য হিন্দু
আপনার মতামত লিখুন :