মিয়ানমারে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর মানবিক সহায়তা হিসেবে জাতিসংঘ ৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। মিয়ানমারে এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর অন্তত ১৪৪ জন মারা গেছেন এবং ৭৩২ জনের বেশি আহত হয়েছেন, এবং উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানা গেছে।
একই সময়ে, শুক্রবার (২৮ মার্চ) প্রতিবেশী থাইল্যান্ডের ব্যাংককেও ভূমিকম্পে নির্মাণাধীন একটি উচ্চ-দালান ধসে পড়ে, যেখানে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন।
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা প্রধান, জেনারেল মিন আং হ্লাইং, এক ভিডিও ভাষণে জাতির উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘আমি আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য আবেদন করেছি এবং এএইচএ (AHA) সেন্টার ও ভারতের পক্ষ থেকে কিছু সহায়তা গ্রহণ করেছি।’
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয় (OCHA) জানিয়েছে, এই অর্থ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, অস্থায়ী আশ্রয় এবং চিকিৎসা সহায়তার জন্য ব্যয় করা হবে। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মিয়ানমারের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’
৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি শুক্রবার দুপুরে মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাণ্ডালয়ের কাছে আঘাত হানে। প্রায় ১১ মিনিট পর ৬.৪ মাত্রার একটি শক্তিশালী আফটারশক ভূমিকম্প হয়, যা উদ্ধারকাজকে আরো জটিল করে তুলেছে।
মিয়ানমার একটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত, তবে সাধারণত কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভূমিকম্প হয়। কিন্তু শুক্রবারের এই ভূমিকম্প শহরগুলিকে প্রভাবিত করেছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (USGS) অনুমান করেছে যে, মৃতের সংখ্যা ১,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা প্রধান জেনারেল মিন আং হ্লাইং আরও দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করে "যেকোনো দেশকে" সহায়তা ও দানের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে, মেজর জেনারেল জাও মিন তুন জানিয়েছেন যে, নেপিডো, মাণ্ডালে এবং সাগাইংয়ের হাসপাতালগুলি আহতদের দ্বারা অভিভূত।
উল্লেখ্য, একটি দ্বিতীয় ভূমিকম্প, যার মাত্রা ৪.২ ছিল, শুক্রবার রাতে মিয়ানমারে আঘাত হানে। প্রথম ভূমিকম্পের পর ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে এই ভূমিকম্পটি ঘটে। প্রথম ভূমিকম্পে ১৫০ জনের বেশি নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
আপনার মতামত লিখুন :