পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। পাকিস্তানে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য তাকে এই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
নরওয়ের রাজনৈতিক দল পার্টিয়েট সেন্ট্রাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (টুইটার) এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স নামের একটি অ্যাডভোকেসি গ্রুপের প্রচেষ্টায় ইমরান খানের নাম সম্ভাব্য নোবেলজয়ীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
এক্স পোস্টে বলা হয়েছে, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, PWA এমন একজন নেতাকে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে, যিনি এই পুরস্কারের যোগ্য। তিনি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। মানবাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষায় তার অবদানকে সম্মান জানিয়ে আমরা তার নাম সুপারিশ করেছি।’
ইমরান খানের দ্বিতীয়বার নোবেল মনোনয়ন
এর আগে, ২০১৯ সালেও শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন ইমরান খান। তখন তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তবে অন্যান্য পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর মতো ইমরান খানও তার মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। ২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি।
ক্ষমতা হারানোর পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। ২০২৩ সালের আগস্টে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বিভিন্ন মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। বর্তমানে তিনি পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
ক্রিকেট থেকে রাজনীতি: ইমরান খানের জীবনী সংক্ষেপ
জন্ম: ১৯৫২ সালে, লাহোর, পাকিস্তান
পরিবার: সম্ভ্রান্ত পশতু পরিবার, বাবা ইকরামুল্লাহ খান নিয়াজি ও মা শওকত খানম
শিক্ষা: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি
ক্রিকেট ক্যারিয়ার:
- ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে খেলতেন
- পাকিস্তানকে ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ জেতান অধিনায়ক হিসেবে
রাজনৈতিক যাত্রা:
- ১৯৯৬ সালে তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দল প্রতিষ্ঠা করেন
- ২০১১ সালে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে জনপ্রিয়তা অর্জন
- ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন
ব্যক্তিগত জীবন:
- ১৯৯৫ সালে জেমিমা গোল্ডস্মিথকে বিয়ে করেন, ২০০৪ সালে বিচ্ছেদ
- এরপর সাংবাদিক রেহাম খানকে বিয়ে করলেও দ্রুত বিচ্ছেদ ঘটে
- বর্তমানে তার স্ত্রী বুশরা বিবি
ইমরান খানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার
ইমরান খান তার ক্রিকেটীয় সাফল্য ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য পরিচিত। তিনি পাকিস্তানকে একটি কল্যাণমূলক ইসলামিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য তার মনোনয়ন পাকিস্তানে তার জনপ্রিয়তা এবং বৈশ্বিক স্বীকৃতির আরেকটি দৃষ্টান্ত। তবে, কারাগারে থাকা অবস্থায় এই মনোনয়ন তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে।
এই মনোনয়ন ইমরান খানের রাজনৈতিক জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে, তবে এটি তার মুক্তির সম্ভাবনাকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা সময়ই বলে দেবে।