ভারতের ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ জেলার বারহাট এলাকায় দুটি মালবাহী ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন চালক নিহত হয়েছেন। সোমবার (১ এপ্রিল) রাত ৩টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন, যাদের চিকিৎসার জন্য মালদহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত চালকদের একজন গঙ্গেশ্বর মাল, যিনি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জিয়াগঞ্জের বাসিন্দা। এনটিপিসি (ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন)-এর মালবাহী ট্রেন চালিয়ে কর্মজীবনের শেষ দিনেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। তার সহকর্মী অম্বুজ মাহাতোও এই দুর্ঘটনায় নিহত হন।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এনটিপিসির মালিকানাধীন রেললাইনে এই দুর্ঘটনা ঘটে, যা কয়লা পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়। দুটি ডিজেল ইঞ্জিনসহ একটি মালবাহী ট্রেন ক্রসিংয়ের কাছে অপেক্ষা করছিল, যাতে অন্য একটি ট্রেন আগে চলে যেতে পারে। কিন্তু ভুলবশত আরেকটি মালবাহী ট্রেন একই লাইনে ঢুকে পড়ে, যেখানে আগের ট্রেনটি দাঁড়িয়ে ছিল। ফলে দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে, এবং উভয় ট্রেনই লাইনচ্যুত হয়ে যায়।
সাহেবগঞ্জের পুলিশ সুপার অমিত কুমার সিং দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বারহাটের এমজিআর রেললাইনে এনটিপিসির মালবাহী দুটি ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে চালক গঙ্গেশ্বর মাল ও অম্বুজ মাহাতো মারা গেছেন।’
আহতদের অবস্থা ও তদন্তের অগ্রগতি
# এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই সহকারী লোকো পাইলট ও দুই শ্রমিক।
# তাদের মালদহ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
# রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করছে।
এই দুর্ঘটনা রেলওয়ে নিরাপত্তা ও সিগন্যালিং সিস্টেমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, তা এখন দেখার বিষয়।