রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেনাবাহিনীর আকার বাড়াতে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সি ১ লাখ ৬০ হাজার তরুণকে বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এটি ২০১১ সালের পর রাশিয়ার সবচেয়ে বড় সেনা নিয়োগ অভিযান।
জানা গেছে, নতুন সেনা নিয়োগের এই কর্মসূচি চলবে এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত। ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় এবার ১০ হাজার বেশি সেনা নেয়া হচ্ছে বলেও জানা যায়।
সেনা বাড়ানোর লক্ষ্য কী?
গত বছর পুতিন ঘোষণা দিয়েছিলেন, রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ২৯ লাখ করা হবে, যার মধ্যে ১৫ লাখ হবে সক্রিয় সেনা। সেনা নিয়োগের সংখ্যা আগামী তিন বছরে বেড়ে ১ লাখ ৮০ হাজারে পৌঁছাবে।
কেন এখন এই সিদ্ধান্ত?
যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির চেষ্টা করলেও রাশিয়া তা মানেনি। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে নতুন হামলা হয়েছে। আর ইউক্রেন দাবি করেছে, মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) রাশিয়ার হামলায় খেরসনের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হয়ে ৪৫ হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়েছে।
রাশিয়ার সেনা মোতায়েন বিভাগের প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল ভ্লাদিমির সিমলিয়ানস্কি বলেছেন, “নতুন সেনাদের ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হবে না, বরং এর জন্য আমাদের `বিশেষ সামরিক` বাহিনী রয়েছে।”
তবে যুদ্ধের শুরুর দিকে বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ করা সেনাদের ইউক্রেনে পাঠানো হয়েছিল এবং তারা নিহত হয়েছিলেন, এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
তরুণদের বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ এড়ানোর চেষ্টা
রাশিয়ার অনেক তরুণ বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ এড়াতে বিকল্প বেসামরিক চাকরি খুঁজছেন। অনেকে সেনাবাহিনীতে যোগ না দিতে দেশ ছেড়েও পালাচ্ছেন বলে জানা যায় ।
রাশিয়া উত্তর কোরিয়া থেকে ব্যাপক সংখ্যক যোদ্ধা এবং হাজার হাজার চুক্তিভিত্তিক সেনা নিয়োগ করছে।
রাশিয়ার সেনা হতাহতের বাস্তব চিত্র
# বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইউক্রেনে নিহত রুশ সেনার সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে।
# তবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা হয়তো দ্বিগুণের বেশি।
ন্যাটো সম্প্রসারণ ও রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া
# ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে পুতিন তিনবার সেনাবাহিনী বাড়িয়েছেন।
# ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সেনা সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ‘ন্যাটোর ক্রমবর্ধমান সম্প্রসারণের’ কথা বলেছিল।
রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় ন্যাটো ফিনল্যান্ড ও সুইডেনকে জোটে যুক্ত করেছে।
ফিনল্যান্ডের সঙ্গে রাশিয়ার ১,৩৪৩ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, যা নেটোর দীর্ঘতম রাশিয়া-সংলগ্ন সীমান্ত।
এই বিশাল সেনা নিয়োগ রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয় এবং ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি শিগগিরই হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
আপনার মতামত লিখুন :