বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৫

বাংলাদেশকে ভেঙে ফেলার হুমকি ভারতীয় নেতার

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০২৫, ০২:৩৮ পিএম

বাংলাদেশকে ভেঙে ফেলার হুমকি ভারতীয় নেতার

ছবি: সংগৃহীত

উদ্ভাবনী এবং প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জের পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন অর্থ ব্যয়ের পরিবর্তে আমরা বাংলাদেশকে ভেঙে ফেলে সমুদ্রে নিজেদের পথ তৈরি করতে পারি বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির  উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় আরেক রাজ্য ত্রিপুরার রাজনৈতিক তিপরা মোথা পার্টির নেতা প্রদ্যুত মানিক্য।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে সবসময় উপজাতিরা বসবাস করতেন, যারা ১৯৪৭ সাল থেকে ভারতের অংশ হতে চেয়েছিলেন। সেখানে ত্রিপুরা, গারো, খাসি এবং চাকমা জনগোষ্ঠীর লাখ লাখ মানুষ রয়েছেন; যারা বাংলাদেশে তাদের ঐতিহ্যবাহী ভূমিতে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বাস করেন। এটিকে আমাদের জাতীয় স্বার্থ ও তাদের কল্যাণের জন্য ব্যবহার করা উচিত।

মঙ্গলবার ( ১ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক বার্তায় এ কথা বলেন তিনি।

সম্প্রতি, ৪ দিনের চীন সফরে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভারতের পূর্বাঞ্চলের সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত সাতটি রাজ্য। এই রাজ্যগুলো ভারতের স্থলবেষ্টিত অঞ্চল। সমুদ্রে পৌঁছানোর জন্য তাদের যোগাযোগের কোনো উপায় নেই। এই অঞ্চলের জন্য সমুদ্রের একমাত্র অভিভাবক বাংলাদেশ।

তিনি আরও বলেন, এটি বিশাল এক সম্ভাবনা উন্মোচন করে। এটি চীনা অর্থনীতির একটি সম্প্রসারণও হতে পারে।

তার এই মন্তব্যের প্রথম প্রতিক্রিয়া জানান সেভেন সিস্টার্সের অন্যতম সদস্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের এই মন্তব্য ভারতের কৌশলগত চিকেন’স নেক কডিডোরের দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতাকেই তুলে ধরে।

চিকেন্স নেক করিডোরের আশপাশে আরও শক্তিশালী রেল ও সড়ক নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে উদ্ভাবনী পরিকল্পনা এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যও আহ্বান জানান আসামের মুখ্যমন্ত্রী।

হিমন্ত বিশ্বশর্মার প্রতিক্রিয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানান, ত্রিপুরার রাজপরিবারের অন্যতম উত্তরাধিকারী এবং বর্তমানে বিজেপির অন্যতম জোটসঙ্গী ত্রিপুরা মোথার শীর্ষ নেতা প্রদুৎ মাণিক্য দেববর্মা। এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সমর্থন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর দখলের হুমকি দেন তিনি।

প্রদ্যুৎ বলেন, ভারতের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল ১৯৪৭ সালে চট্টগ্রাম বন্দর পাকিস্তানকে ছেড়ে দেওয়া, কারণ চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের লোকজন আমাদের সঙ্গে থাকতে চেয়েছিল, ভারতীয় ইউনিয়নের অংশ হতে চেয়েছিল।

তিনি  বলেন, সেই ভুল সংশোধনের সময় এসেছে এখন। একসময় যারা চট্টগ্রাম নিয়ন্ত্রণ করত, সেই আদিবাসী জনগণের সহায়তা নিয়ে আমরা সমুদ্রে যাওয়ার পথ তৈরি করতে পারি। জনাব ইউনূস নিজেকে সমুদ্রের অভিভাবক ভাবতেই পারেন, কিন্তু সত্য হলো— তিনি একটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান এবং তার বয়স প্রায় ৮৫। এটাও আমাদের মনে রাখতে হবে যে, চট্টগ্রাম থেকে ত্রিপুরার দূরত্ব মাত্র কয়েক মাইল।

প্রদ্যুৎ বলেন, সড়ক ও রেল যোগাযোগের জন্য কোটি কোটি রুপি খরচ না করে আমরা বাংলাদেশকে ভেঙে সমুদ্রপথ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারি। বাংলাদেশে লাখ লাখ ত্রিপুরা, গারো, খাসি ও চাকমা জাতিগোষ্ঠীর লোকজন বসবাস করে। তারা ১৯৪৭ সালে ভারতের অংশ হতে চেয়েছিল। বর্তমানে তারা ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে। যদি আমরা অগ্রসর হই, তাহলে তাদের নিজেদের স্বার্থেই তারা আমাদের পাশে দাঁড়াবে।

আরবি/এসবি

Link copied!