ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৫

নামাজরত অবস্থায় পাঁচ শতাধিক মানুষের মৃত্যু

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০২৫, ০৮:৪৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে গত শুক্রবার যখন জুমার নামাজের আজানের ধ্বনি ভেসে আসছিলো, তখন শত শত মুসলমান মসজিদের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা রমজানের শেষ শুক্রবারের নামাজ আদায় করতে উৎসুক ছিলেন, কারণ ঈদ উৎসবের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি ছিল। কিন্তু তাদের আনন্দযাত্রা নিমেষেই পরিণত হয় শোকের মিছিলে।

সেদিন স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে এক মারাত্মক ভূমিকম্প আঘাত হানে। তিনটি মসজিদ ধসে পড়ে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় মসজিদ ছিল মায়োমা। এর ভেতরে প্রায় সবাই মারা যান। জান্তা সরকারের দেওয়া তথ্য অনুসারে, সেখানকার পাঁচটি মসজিদে থাকা পাঁচ শতাধিক মানুষ মারা গেছেন।

সাগাইং ও মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের কাছে সংঘটিত এই ভূমিকম্পে প্রায় তিন হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধার অব্যাহত রেখেছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সাগাইং অঞ্চল প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দিরগুলোর জন্য পরিচিত হলেও শহরগুলোতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম বসবাস করেন। জান্তা সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং সোমবার জানিয়েছেন, মসজিদে নামাজ পড়ার সময় পাঁচ শতাধিক মুসলমান নিহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, শহরের মসজিদগুলোর মধ্যে মায়োমা স্ট্রিটে অবস্থিত মসজিদের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। ওই সড়কের আরও অনেক ভবনও ধসে পড়েছে। শত শত মানুষ এখন রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে—কারও বাসা ভেঙে গেছে, কেউ আবার আফটারশকের ভয়ে ঘরে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না। খাদ্যের সরবরাহও সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।

শুধু মায়োমাতেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ৬০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন, আর মিয়োদাও ও মোইকিয়া মসজিদেও বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত সেখানে মরদেহ উদ্ধার অব্যাহত ছিল।