যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা’ কমানোর লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নতুন শুল্ক আগামী ৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।
বুধবার (২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যেসব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, তা কার্যকর হবে ৫ এপ্রিল রাত ১২:০১ মিনিট (মার্কিন স্থানীয় সময়) থেকে। আর যেসব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশের বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, তা ৯ এপ্রিল রাত ১২:০১ মিনিট (মার্কিন স্থানীয় সময়) থেকে কার্যকর হবে।
বাংলাদেশের জন্য শুল্ক বাড়ল ৩৭ শতাংশ
ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশসহ মোট ৩৫টি দেশের পণ্যের ওপর পূর্বের শুল্ক হার পরিবর্তন করে নতুন হার নির্ধারণ করেছে। বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা পণ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য ১১ ঘণ্টা। সেই হিসাবে, বাংলাদেশের স্থানীয় সময় ১০ এপ্রিল বেলা ১১টা থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে।
ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বেশি শুল্ক বাংলাদেশের ওপর
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের ওপর সবচেয়ে বেশি শুল্ক বসানো হয়েছে। বাংলাদেশের পণ্যে ৩৭ ভাগ, ভারতের পণ্যে ২৬ ভাগ এবং পাকিস্তানের পণ্যের ওপর ২৯ ভাগ শুল্ক বসানো হয়েছে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণায়।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের ওপর নতুন শুল্ক হার:
নতুন শুল্ক হার অনুযায়ী কিছু উল্লেখযোগ্য দেশ ও অঞ্চল
- ইউরোপীয় ইউনিয়ন: ২০ ভাগ
- ভিয়েতনাম: ৪৬ ভাগ
- শ্রীলঙ্কা: ৪৪ ভাগ
- তাইওয়ান: ৩২ ভাগ
- জাপান: ২৪ ভাগ
- দক্ষিণ কোরিয়া: ২৫ ভাগ
- থাইল্যান্ড: ৩৬ ভাগ
- সুইজারল্যান্ড: ৩১ ভাগ
- মালয়েশিয়া: ২৪ ভাগ
- কম্বোডিয়া: ৪৯ ভাগ
- যুক্তরাজ্য: ১০ ভাগ
- দক্ষিণ আফ্রিকা: ৩০ ভাগ
- ব্রাজিল: ১০ ভাগ
- সিঙ্গাপুর: ১০ ভাগ
- ইসরায়েল: ১৭ ভাগ
- ফিলিপাইন: ১৭ ভাগ
- অস্ট্রেলিয়া: ১০ ভাগ
- তুরস্ক: ১০ ভাগ
- মিয়ানমার: ৪৪ ভাগ
- লাওস: ৪৮ ভাগ
- মাদাগাস্কার: ৪৭ ভাগ

বাণিজ্য যুদ্ধের নতুন পর্ব
হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন শুল্ক ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আজ খুব ভালো খবর থাকবে।’ উপস্থিত দর্শকরা করতালির মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানান।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই ট্রাম্প ২ এপ্রিলকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং নতুন শুল্ক আরোপকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কখনো কখনো বন্ধু শত্রুর চেয়েও বেশি ক্ষতি করতে পারে।’ তার এই মন্তব্য বিশেষজ্ঞ মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির কারণে বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোও পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন শুল্ক বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশের মতো পোশাকনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সূত্র: এএফপি, বিবিসি, রয়টার্স
আপনার মতামত লিখুন :