মিয়ানমারে এক শতকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়ে গেছে, দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
শুক্রবার (২৯ মার্চ) স্থানীয় সময় ভোরে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প দেশটিকে কাঁপিয়ে দেয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মান্দালয় শহর।
ত্রাণ সংকট ও মানবিক বিপর্যয়
আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ভূমিকম্প বিধ্বস্ত অঞ্চলে আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে, আহতদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে স্থানীয় হাসপাতালগুলো।
জান্তার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা
আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ২০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআরটিভি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বিদ্রোহীরা যদি হামলা চালায়, তাহলে জান্তা সরকার যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।
প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, সরকারিভাবে যে মৃতের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে, প্রকৃত সংখ্যা তা থেকে অনেক বেশি হতে পারে। বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিদেশি সরকার ত্রাণ এবং উদ্ধারকর্মী পাঠিয়েছে, তবে জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণের কারণে বহু এলাকায় সাহায্য পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
গৃহযুদ্ধের মধ্যেই ভূমিকম্পের ধাক্কা
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ চলছে। বিভিন্ন জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও প্রতিরোধ বাহিনী জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ভূমিকম্পের ফলে দেশটির মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: চীনা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন, রয়টার্স
আপনার মতামত লিখুন :