রাশিয়া ২০২৯-৩০ সালের মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এক বা একাধিক দেশ আক্রমণ করতে পারে, এমনটাই সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইইউ প্রতিরক্ষা কমিশনার আন্দ্রিয়াস কুবিলিয়াস।
বুধবার (৩ এপ্রিল) ওয়ারশতে ইইউ নিরাপত্তা ফোরামে বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘রাশিয়া ইতোমধ্যেই ইইউর বিরুদ্ধে হাইব্রিড যুদ্ধ চালাচ্ছে, যা সামরিক হামলার প্রস্তুতির অংশ। অন্যদিকে পোল্যান্ড, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও ফিনল্যান্ডের সীমান্তে অভিবাসন সংকট তৈরি করছে রাশিয়া। এ ছাড়াও বাল্টিক সাগরের সমুদ্রতলে কেবল কেটে (আন্ডারওয়াটার কেবল) ইইউর যোগাযোগ ও তথ্যপ্রবাহ ব্যাহত করছে।’
রাশিয়া ন্যাটোর চেয়েও বেশি অস্ত্র তৈরি করছে
কুবিলিয়াস আরও বলেন, “রাশিয়া এখন পুরোপুরি ‘যুদ্ধ অর্থনীতিতে’ পরিণত হয়েছে এবং ন্যাটোর সম্মিলিত অস্ত্র উৎপাদনের চেয়েও বেশি সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করছে।"
তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি এখনই কিছু না করি, তাহলে এই হাইব্রিড আক্রমণের পর সরাসরি সামরিক হামলা শুরু হতে পারে।"
২০২৯-৩০ সালের মধ্যে ন্যাটোকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে রাশিয়া
গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে কুবিলিয়াস বলেন, “রাশিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে ন্যাটোর আর্টিকেল-৫ (সম্মিলিত আত্মরক্ষার নীতি) চ্যালেঞ্জ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ৫ বছরের কম সময়ের মধ্যেই রাশিয়া ইইউর অন্তত একটি দেশ আক্রমণের জন্য সক্ষম হয়ে উঠবে।”
ইইউ কী ব্যবস্থা নিচ্ছে?
এই হুমকি মোকাবিলায় দুই সপ্তাহ আগে ইউরোপীয় কমিশন একটি ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করেছে, যেখানে ইউরোপের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার বিভিন্ন পদক্ষেপ উল্লেখ করা হয়েছে-
# প্রতিরক্ষা খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ
# সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহ
# ইউরোপের সামরিক শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা
কুবিলিয়াস বলেন, "কোনো একক ইউরোপীয় দেশ একা রাশিয়ার বিরুদ্ধে টিকে থাকতে পারবে না। তবে ইইউ ও ন্যাটো একসঙ্গে থাকলে, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।”
পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে?
ন্যাটো ও ইইউ দেশগুলো প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে আরও বড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাশাপাশি ইইউ ও ন্যাটো রাশিয়ার সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসন ঠেকাতে একযোগে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আপনার কী মনে হয়, রাশিয়া সত্যিই ৫ বছরের মধ্যে ইইউ দেশগুলোর ওপর হামলা করবে? নাকি এটি শুধু পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা?
আপনার মতামত লিখুন :