ঢাকা শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫

ঋণ না পেয়ে হতাশায় ‘মানি হাইস্ট’ দেখে ব্যাংক লুট

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৩, ২০২৫, ০৮:১৪ পিএম
ছবি: ইন্টারনেট

ভারতের দাভানাগেরে জেলার একটি ব্যাংক ডাকাতি ঘটেছিল পাঁচ মাস আগে। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, ওই ঘটনায় জড়িত প্রধান অভিযুক্ত তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ের বাসিন্দা বিজয় কুমার ‘মানি হাইস্ট’ ক্রাইম ড্রামাটি ১৫ বার দেখেছিলেন। 

এমনকি তিনি বেশ কয়েকটি ব্যাংক ডাকাতির ডকুমেন্টারি ও ইউটিউব ভিডিও দেখেও প্রভাবিত হয়েছিলেন। এরপরেই তিনি এবং তার সহযোগীরা স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (এসবিআই) একটি শাখায় ডাকাতি করার পরিকল্পনা করেন এবং সেখান থেকে ১৭.৭ কেজি স্বর্ণ লুট করেন।

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকটি পর্যবেক্ষণ করছিল এবং ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। প্রায় ছয় মাস ধরে, সন্দেহভাজনরা ব্যাংকের চারপাশে নজরদারি চালিয়ে, বিশেষ করে সরকারি ছুটির দিনে যখন ব্যাংকটি বন্ধ থাকত, তখনই হামলা চালানোর পরিকল্পনা করে। সন্দেহভাজনরা মোবাইল ফোন ব্যবহার না করার কারণে পুলিশ কোন সূত্রও পাচ্ছিল না।

২৬ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে রাতের বেলায় ডাকাতির পর, তারা লুট করা স্বর্ণ নিয়ে ৩ কিলোমিটার দূরে পার্ক করা একটি রেনল্ট ডাস্টার গাড়িতে চলে যায়। এরপর তারা সেই স্বর্ণ সুরাহন্নি গ্রামে লুকিয়ে রাখে এবং পরবর্তী সময়ে তা মাদুরাইয়ে নিয়ে গিয়ে বিজয়ের পরিবারের একটি ফার্মহাউজের পরিত্যক্ত কুয়ার মধ্যে লুকিয়ে রাখে।

তারা ঘটনাস্থলে মরিচ গুঁড়ো ছড়িয়ে দেয়, যাতে পুলিশের কুকুর স্কোয়াড বা ডগ স্কোয়াড কোনো গন্ধের সূত্র না পায়। এভাবে, তারা চমৎকারভাবে তাদের অপরাধের কোনো চিহ্ন রেখে যায়নি, ফলে মামলাটি সমাধান করা পুলিশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

পুলিশ জানায়, বিজয় এর আগে এসবিআইয়ের নিয়ামতি শাখায় তার বেকারি ব্যবসার জন্য পিএমই স্কিমের আওতায় ১৫ লাখ টাকা ঋণের আবেদন করেছিলেন, তবে তার কম সিবিল স্কোরের কারণে তা প্রত্যাখ্যাত হয়। আইজিপি রভিকান্ত গৌডা বলেন, বিজয় ঋণ না পেয়ে হতাশায় ডুবে গিয়েছিল এবং এই কারণে সে ব্যাংক ডাকাতির পরিকল্পনা করে সফল হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে মোট ১৭ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।