শুনতে অবাক লাগবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির আওতা থেকে বাদ যায়নি জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের ‘স্বাধীনতা দিবস শুল্ক’ ঘোষণায় সব বাণিজ্য অংশীদারের ওপর সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
এরমধ্যে রয়েছে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের জনমানবহীন ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জও। সেখানে বাস করে পেঙ্গুইনসহ কিছু সংরক্ষিত প্রজাতির প্রাণী।
এটি অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ৬০০ মাইল পূর্বে অবস্থিত। আগ্নেয় দ্বীপটি সামান্য পরিমাণে কেন্টয়া পাম বীজ বিদেশে রপ্তানি করে, যার বার্ষিক মূল্য ১ মিলিয়ন ডলারের কম। যার বেশির ভাগই ইউরোপে যায়।
কিন্তু দ্বীপটির ওপর ২৯ শতাংশ শুল্ক আরোপের খবরটি কৌতুক ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।
সাংবাদিকদের দেওয়া এক নথিতে উল্লেখ ছিল, এই দ্বীপগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, যা ‘মুদ্রা হস্তক্ষেপ ও বাণিজ্য বাধা’ তৈরি করে।
প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের ওপর ‘ছাড়কৃত প্রতিশোধমূলক শুল্ক’ আরোপ করেছে।
অস্ট্রেলীয় সরকারের ওয়েবসাইটে হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জকে ‘পৃথিবীর অন্যতম দুর্গম ও বন্যতম স্থান` হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ান প্রোগ্রামের তথ্য অনুসারে, পশ্চিম অ্যান্টার্কটিক অস্ট্রেলিয়ার ফ্রিম্যান্টল বন্দর থেকে নৌপথে সেখানে পৌঁছাতে আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে প্রায় ১০ দিন সময় লাগে।
এই দ্বীপগুলো বিভিন্ন সংরক্ষিত প্রজাতির পেঙ্গুইন, সিল ও পাখির আবাসস্থল।
রাষ্ট্রসংঘের ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত এই দ্বীপগুলোতে প্রায় এক দশক ধরে মানুষের কোনও উপস্থিতি নেই বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘পৃথিবীর কোনও জায়গাই নিরাপদ নয়।’