দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপালে শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাতে দুটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৭ মিনিটে, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৫.২। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি রিখটার স্কেলের ৫.৫ মাত্রায় আঘাত হানে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ১০ মিনিটে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৫২৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত জাজারকোটের পাইক এলাকায়। ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল ২০ কিলোমিটার, যা ভূগর্ভ থেকে মাঝারি গভীরতায় সংঘটিত হয়।
এই ভূমিকম্পের ফলে নেপালের পশ্চিমাঞ্চলীয় সুরখেত, দৈলেখ, এবং কালিকটসহ পার্শ্ববর্তী অন্য জেলাগুলোতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে, এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পের কারণে কোনো হতাহতের বা বড় ধরনের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভারতের বিভিন্ন স্থান, বিশেষত দিল্লি এবং উত্তর ভারতের অনেক জায়গাতেও এই ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ফলে কিছু এলাকায় বাড়ির ভাঙচুর ও অন্যান্য ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তবে কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এটি এমন সময় হয়েছে, যখন ২৮ মার্চ মিয়ানমারে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। রিখটার স্কেলে তার মাত্রা ছিল ৭.৭। ওই ভূমিকম্পে মিয়ানমারে তিন হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এর প্রভাব থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককেও পড়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ভূমিকম্পের এই ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের ঝুঁকি এবং প্রস্তুতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।