ভারতে বিতর্কিত ওয়াকফ সংশোধনী বিলকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিলের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ। ধর্মীয় সম্পত্তির ওপর হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে পুড়িয়েছেন কুশপুত্তলিকা।
দীর্ঘ বিতর্কের পর, বুধবার (২ এপ্রিল) গভীর রাতে ভারতের পার্লামেন্টে ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিলের পক্ষে ২৮৮ এবং বিপক্ষে ২৩২ জন সাংসদ ভোট দেন।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পার্লামেন্টে ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) জুমার নামাজের পর কলকাতা, চেন্নাই, এবং আহমেদাবাদের মতো প্রধান শহরগুলোতে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, দেশের লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও বিতর্কিত ওয়াকফ বিল পাস হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, মুসলিম সম্প্রদায়ের দান করা ধর্মীয়, শিক্ষা ও সেবামূলক কাজে ব্যবহৃত সম্পত্তি ওয়াকফ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না। নতুন বিলে ওয়াকফ বোর্ডে অ-মুসলিম সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এটি স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে।
বর্তমানে ভারতে প্রায় ৯ লাখ একর ওয়াকফ জমি রয়েছে এবং বিশ্লেষকদের মতে, বিলটির মূল উদ্দেশ্য হলো এই জমির ওপর সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।
বিতর্ক ও প্রতিবাদ সত্ত্বেও ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। এখন রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের অপেক্ষা, এরপর এটি কার্যকর হবে। তবে তার আগেই রাজপথে নেমেছে মুসলিম সম্প্রদায়।
তারা সরকারের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিচ্ছেন যে, ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় তারা লড়াই চালিয়ে যাবেন।
মুসলিম নেতারা দাবি করেছেন, ওয়াকফ আইনে পরিবর্তন এনে বলা হচ্ছে যে এটি গরিবদের উন্নয়নের জন্য। কিন্তু সংসদে কোথাও মুসলমানদের জন্য বাড়ি, পেনশন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা লোনের কথা বলা হয়নি।
তাই তারা প্রশ্ন তুলছেন, উন্নয়ন কোথায়? তারা মনে করেন, এই বিলটি শুধু তাদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
ওয়াকফ সংশোধনী বিলের পাসের প্রতিবাদে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতায় বিপুল জনসমাগমে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হাতে প্ল্যাকার্ড, কণ্ঠে ক্ষোভের সুর নিয়ে হাজার হাজার মানুষ ‘ওয়াকফ বিল মানি না’ স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানান। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীরা মিছিল করেন এবং কুশপুত্তলিকা পোড়ান।
এ ছাড়া আহমেদাবাদে মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে জনতার বাদানুবাদ ঘটে। এএনআইর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় বসে পড়া বেশ কয়েকজন বয়স্ক ব্যক্তিকে পুলিশ জোর করে সরিয়ে দিচ্ছে।
এ সময় অল ইন্ডিয়া মজলিশে ইত্তেহাদুল মুসলেমিন সংগঠনের প্রধানসহ ৪০ জনকে আটক করা হয়।
ইতোমধ্যে, চেন্নাই-লখনৌসহ দেশের অন্য শহরগুলোতে এই বিতর্কিত বিলের পাসের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।