ঢাকা শনিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৫

এবার ভারত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক যুদ্ধ বিমানবহর

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৫, ১১:৪৬ এএম
ভারত মহাসাগরে গার্সিয়া ঘাঁটি ছবি: এবিসি নিউজ

পেন্টাগন ভারত মহাসাগরে অবস্থিত গার্সিয়া ঘাঁটিতে মার্কিন বিমানবাহিনীর স্টেলথ বোমারু বিমানবহরের ৩০ শতাংশ অর্থাৎ, অন্তত ছয়টি বি-২ যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হলো।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান ও ইয়েমেনে হুতিদের প্রতি একটি সতর্ক বার্তা এটি।

মার্কিন সম্প্রচার মাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হ্যাগসেথ যখন ইরান ও তার প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, ঠিক তখনই এই মোতায়েনের বিষয়টি সামনে এলো।

মঙ্গলবার বেসরকারি স্যাটেলাইট ইমেজিং কোম্পানি প্ল্যানেট ল্যাবসের তোলা ছবিতে দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপের টারমাকে (বিমানের পার্কিং এলাকা) ছয়টি মার্কিন বোমারু বিমান দেখা গেছে। একইসঙ্গে কিছু শেল্টার/হ্যাঙ্গার বা বিমান রাখার মতো কাঠামোও দেখা গেছে। সেখানে সম্ভবত আরও বিমান লুকানো থাকতে পারে।

এগুলোর পাশাপাশি ঘাঁটিটিতে তেলবাহী ট্যাংকার এবং কার্গো বিমানও আছে।

দ্বীপটির সামরিক ঘাঁটিটি যৌথভাবে পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন। এটি ইরানের দক্ষিণ উপকূল থেকে ৩ হাজার ৯০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

বি-২ বোমারু বিমানের কথা সরাসরি উল্লেখ না করে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ওই অঞ্চলে আমেরিকার প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান উন্নত করতে অতিরিক্ত বিমান এবং ‘অন্যান্য আকাশ সরঞ্জাম’ পাঠাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ... এবং এই অঞ্চলে সংঘাত বাড়াতে বা উসকে দিতে চাওয়া যেকোনো রাষ্ট্রীয় বা অ-রাষ্ট্রীয় শক্তির জবাব দিতে প্রস্তুত।’

সিএনএনের সামরিক বিশ্লেষক সেড্রিক লেইটন বলেছেন, এই অত্যাধুনিক ২০০ কোটি ডলার মূল্যের যুদ্ধবিমানগুলোর মোতায়েন মার্কিন প্রতিপক্ষের জন্য একটি সংকেত।

মার্কিন বিমানবাহিনীর সাবেক এই কর্নেল বলেন, ‘এই বি-২গুলোর মোতায়েন পরিষ্কারভাবে ইরানের প্রতি একটি বার্তা—সম্ভবত একাধিক বার্তা—পাঠানোর জন্য করা হয়েছে।’

সম্প্রতি, ট্রাম্প ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে আসার জন্য চাপ দিচ্ছেন। ১৯ মার্চ তিনি বলেন, তেহরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য দুই মাস সময় দেবেন, নতুবা পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। 

কিন্তু ইরান গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো সরাসরি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে।