শনিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কে দিশাহারা ভারতীয় হীরা ব্যবসায়ীরা

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৫, ০১:০৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কে দিশাহারা ভারতীয় হীরা ব্যবসায়ীরা

সুরাট ডায়মন্ড বোর্স ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্ধিত শুল্কারোপের ঘোষণায়  অনিশ্চয়তার ঝুঁকিতে পড়েছে ভারতের হীরা বাণিজ্য। বিলাসী এই পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, গেল কয়েক বছর ধরেই এ খাতে মন্দা চলছে। এর মধ্যে, বাড়তি শুল্কারোপ ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। ফলে, দুশ্চিন্তায় ভারতের হীরা ব্যবসায়ীরা।

ভারতের ‘হীরার শহর’ সুরাট। গুজরাটের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ শহরটিতে প্রতিদিন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি হীরা বিক্রি হয়। একসময় হীরার ব্যবসায়ী আর মধ্যস্থতাকারীদের ভিড়ে যেখানে গমগম করত, এখন সেখানকার চিত্র পুরো উল্টো। দোকানপাট সব খালি, নেই ক্রেতা সমাগম।

সম্প্রতি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ঘোষণার পরপরই শহরটির এমন রূপ বদল। ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণায় যেন থমকে গেছে ভারতের হীরার বাজার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারতের রত্ন ও গয়না রপ্তানি ছিল ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলার, যার মধ্যে ৩০ শতাংশেরও বেশি এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

চীন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে চাহিদা কমার পর যুক্তরাষ্ট্রের এমন ঘোষণায় যেন পুরোই মুখ থুবড়ে পড়েছে সুরাট। হুমকির মুখে হাজার হাজার শ্রমিকের জীবিকা।

ইন্ডিয়ান ডায়মন্ড ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান দিনেশ নবাদিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সবচেয়ে বড় বাজার। ওখানে ভোক্তাদের চাহিদা কমে গেলে সরাসরি প্রভাব পড়বে এখানে।

২০২৩ সালে হীরার বাজারে ভারতের সম্ভাবনার কথা চিন্তা করে হীরা কেনাবেচা ও রপ্তানির জন্য বিশেষায়িত এলাকা সুরাট ডায়মন্ড বোর্স উদ্বোধন করা হয় সুরাটে।

এর লক্ষ্য ছিল হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি হীরার বাণিজ্যে এক নতুন প্রাণকেন্দ্র গড়ে তোলা। ৬৬ লাখ বর্গফুট জায়গার ওপর গড়ে ওঠা এ ভবনটি এখন ঢেকে আছে অনিশ্চয়তার ছায়ায়।

আরবি/এসএম

Link copied!