পার্সিয়ান নববর্ষের ছুটি কাটাতে স্ত্রীকে নিয়ে দক্ষিণ মেরুতে গিয়েছিলেন ইরানের সংসদ বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট সারাম দাবিরি।
অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে তার ওই বিলাসী ভ্রমণ মেনে নিতে পারেননি দেশটির জনগণ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ভ্রমণের বিভিন্ন ছবি দিয়ে সমালোচনা করেন তারা।
যারপ্রেক্ষিতে বরখাস্তই হলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট দাবিরি।
শনিবার (৫ এপ্রিল) তাকে বরখাস্ত করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ান। ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সরকারি এক বিজ্ঞপ্তিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যদি তিনি (সারাম দাবিরি) ব্যক্তিগত খরচেও ঘুরে থাকেন, কিন্তু আমাদের দেশের অনেক মানুষ দুরবস্থার মধ্যে বাস করেন এবং দেশের ওপর অর্থনৈতিক চাপ যখন অনেক প্রবল তখন তার এই ভ্রমণ কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত হতে পারে না। কারণ এটি ইরানি কর্মকর্তাদের প্রত্যাশিত সাদাসিধা জীবনযাপনের পরিপন্থি।’
মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘দাবিরির সফরের একটি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করার পরই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মাঝে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব রয়েছে। তবে সংসদীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আপনি যা করেছেন তা জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতির পরিপন্থি।’
এ বিষয়ে ইরানের সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের এমন পদক্ষেপ প্রমাণ করে, তিনি ভ্রতৃত্বসম্পর্কের চেয়ে ন্যায়বিচার, সততা এবং জনসাধারণকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।’
সারাম দাবিরি ও তার স্ত্রীর ঘোরাঘুরির যেসব ছবি ভাইরাল হয়েছে, সেগুলোতে দেখা গেছে, ইরানি নতুন বর্ষের সময় আর্জেন্টিনা ও অ্যান্টার্টিকা মহাদেশে ঘুরতে গেছেন।
তবে সামাজিক মাধ্যমে ছবিগুলো ভাইরাল হওয়ার পর বরখাস্ত হওয়া সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে কোনো কথা বলেননি।
তবে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বার্তাসংস্থা ইরনাকে তার দপ্তরের এক কর্মকর্তা গত ২৫ মার্চ বলেন, ‘এ ছবিগুলো এ বছরের নয়। এগুলো গত বছরের। তিনি ওই সময় ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন না।’
বরখাস্ত হওয়া ভাইস প্রেসিডেন্টকে স্ত্রীসহ ‘প্ল্যানসিয়াস’ নামে একটি প্রমোদতরীর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
ব্যয়বহুল এ জাহাজটি ২০০৯ সাল থেকে অ্যান্টার্টিকায় মানুষদের ঘুরিয়ে নিয়ে আসছে।
যেটিতে চড়তে বর্তমানে একেকজনকে ৩ হাজার ৮৮৫ ইউরো খরচ করতে হয়। যা বাংলাদেশি অর্থে ৫ লাখ টাকার বেশি।
এরআগে ২০২০ সালে অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এই সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট। যদিও পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে এ মামলা তুলে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
৬৪ বছর বয়সী সারাম দাবিরি পেশায় আগে একজন চিকিৎসক ছিলেন। এছাড়া তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছের লোক হিসেবেও পরিচিত।
আপনার মতামত লিখুন :